সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মা-বাবার যৌনতা শিক্ষা

ইসমাম পারভেজ কনক




আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সেক্স এডুকেশনের কথা বিগত কয়েক বছর ধরে বেশ আলোচনা করছি৷ আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় কি ভাবে সেক্স এডুকেশন সংযুক্ত করা যায় সেই বিষয়টাও আলোচনায় এসেছে৷
অব্যাহত আলোচনা সমালোচনার জেরে আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফলতাও পেয়েছি৷ পরিষ্কারভাবে এই দিকটি আমাদের আশার আলো দেখায়৷ আমরা আশাবাদী যে পরিবর্তন আসবে৷ কিন্তু এই ধারাবাহিকতায় আমরা নতুন আরেকটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি৷ আর তা হচ্ছে আমাদের প্যারেন্টদের সেক্স এডুকেশন৷ যদিও আমরা এখন আর বিষয়টাকে যৌন শিক্ষা হিসেবে দেখছি না৷ বৃহৎ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আমরা এখন কম্প্রিহেনসিভ সেক্স্যুয়ালিটি এডুকেশনের কথা বলছি৷ যেখানে সেক্স্যুয়ালিটি বা যৌনতা সম্পর্কে কগনিটিভ, ইমোশনাল, ফিজিকাল ও সামাজিক দিকগুলোকে কারিকুলাম ভিত্তিক শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি দেখা হয়৷



প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা এখনও পরিবারের কাছ থেকেই সেক্স্যুয়ালিটি এডুকেশন পেয়ে থাকি৷ সচেতনভাবে হোক আর অবচেতনভাবেই৷ সেক্ষেত্রে আমাদের বাবা-মা প্রাথমিক এজেন্ট হিসেবে আমাদের এই শিক্ষা দিয়ে থাকেন৷ দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের বাবা-মা’দের এই বিষয়ে যেহেতু তেমন কোন আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেই তাই তারাও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রচলিত মিথ বা প্রচলিত সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় শিক্ষা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকেন৷ আমাদের প্যারেন্টদের নিকটই অনেক প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার নয়৷ বাচ্চা যখন মা বাবাকে প্রশ্ন করে ‘আমি কিভাবে হয়েছি?' বা ‘বাচ্চা কিভাবে হয়?' তখন মা বাবা রূপকথার গল্পের মত করে উত্তর দেয়৷ তার মানে মা বাবা নিজেরাই এই বিষয়গুলো কিভাবে সন্তানের সামনে প্রেজেন্ট করবেন বা কিভাবে এইসকল প্রশ্নের উত্তর দেবেন সেটা নিয়ে পরিষ্কার নন৷ বেশিরভাগ সময়েই তারা বিষয়গুলোকে তাদের অজ্ঞতা বা অক্ষমতার কারণে এভোয়েড করে যান৷ অথচ শিশুকে সঠিক বয়সে সঠিক যৌন শিক্ষা না দিলে তারা যেমন নানবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন তেমনি শিশুরাও শিশুরাও যৌন নিগ্রহের স্বীকার হতে পারে৷ আমরা যদি শিশু কিশোরদের তাদের বয়সভিত্তিক যৌনতা শিক্ষা পরিবার থেকেই প্যারেন্টদের মাধ্যমে শুরু করতে পারি তাহলে সেটা শিশু কিশোরদের যৌনতা এবং প্রজনন শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে।



মোঃসেলিম হোসেন,সহকারী অধ্যাপক,মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

যেমন ধরুন, ১-২ বছরের বাচ্চাদের যদি আমরা তাদের সব অঙ্গের সঠিক নাম শেখাই তখন অবশ্যই তার যৌনাঙ্গের নামও শেখানো আবশ্যক৷ আমরা প্যারেন্টরা অনেক সময় যৌনাঙ্গের ক্ষেত্রে ছদ্মনাম ব্যবহার করে থাকি৷ যা একদমই করা উচিৎ নয়৷ এক্ষেত্রে প্রয়োজনে মেডিক্যাল টার্ম ব্যবহার করতে পারি৷ আবার, ২-৫ বছর বয়সী শিশুরা দেখা যায় তাদের যৌনাঙ্গ নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠে৷ এসময় তারা তাদের জন্মের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠে এবং প্রশ্ন করে৷ প্যারেন্টদের উচিৎ এসময়ে সন্তান জন্ম দেয়ার সহজ ব্যাখ্যা দেয়া৷ বলা যেতে পারে যে বাবা মায়ের ভালোবাসায়  সন্তান হয়৷ মায়ের গর্ভে সন্তান ধীরে ধীরে বাবা মায়ের প্রচেষ্টায় বড় হয় এবং পরবর্তিতে মায়ের প্রজনন অঙ্গের মাধ্যমে ভূমিষ্ঠ হয়৷ এছাড়াও দেখা যায় এসময় বাচ্চারা উলঙ্গ থাকার সময় নিজেদের যৌনাঙ্গ নাড়াচাড়া করে এবং অন্যের যৌনাঙ্গে হাত দিয়ে পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করে৷ এসময় আমরা প্যারেন্টরা অনেক সময় তাদের ধমক দেই৷ অথচ এসকল ক্ষেত্রে ধমক দিলে তার নিজের শরীরের প্রতি বিরূপ ধারণা জন্মায়৷ এর পরিবর্তে আমরা একান্তে তার সাথে আলোচনা করতে পারি৷ তার শরীর যে তার একান্ত ব্যক্তিগত সম্পদ সেটা তাদের বোঝানো যেতে পারে৷ শরীরের কিছু স্থান যে তাদের একান্ত ব্যক্তিগত যা অন্যদের দেখাতে হয় না সেটা বোঝানো যেতে পারে৷ নিজের ব্যক্তিগত অঙ্গে স্পর্শ করা বা হাত দেয়া যে অন্যায় বা লজ্জাজনক নয় সেটা তাদের বোঝানো যেতে পারে৷ তবে অন্যের সামনে এরকম করাটা যে অশোভন সেটাও সাথে সাথে তাকে শেখাতে হবে৷ অন্য কেউ এমন কি পরিবারের কেউও যদি তার ব্যক্তিগত স্থানে স্পর্শ করে বা করতে জোর করে তাহলে তারা যেন অবশ্যই মা বাবাকে জানায় সেটা তাদের জানান৷ কোনটা ভালো স্পর্শ এবং কোনটা খারাপ স্পর্শ সে বিষয় সম্পর্কে তাদের সাথে একান্তে আলোচনা করুন৷


এর পরের ধাপে শিশুরা যেহেতু জেন্ডার রোল বুঝতে শুরু করে তাই এসময় তাদের নারী-পুরুষের সমান অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা যেতে পারে৷ তারা এসময়ে অনেক প্রশ্ন করতে পারে যা প্যারেন্টদের অপ্রস্তুত করে ফেলতে পারে৷ বিব্রতবোধ করলে সময় নিন৷ তারপর প্রস্তুতি নিয়ে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়া যেতে পারে৷ যেহেতু এরপরের ধাপেই তারা বয়ঃসন্ধিকালে প্রবেশ করে তাই এসময় তাদের শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা দেয়া যেতে পারে৷ শারীরিক পরিবর্তনের সাথে কিভাবে মোকাবিলা করতে হবে সে ব্যাপারে তাদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন৷ যৌন মিলন, মাস্টারবেশন ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে এ বয়সী শিশু কিশোররা প্রশ্ন করতে পারে৷ এসকল প্রশ্নের বয়সোপযোগী উত্তর দিন৷ প্রয়োজনে সময় নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করে তারপর উত্তর দিন৷ কিন্তু তার প্রশ্নকে এভোয়েড করে যাবেন না বা ধমক দিয়ে তাকে থামিয়ে দিবেন না৷ তাতে সে ভুল মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে যেয়ে নিজের জন্য অবচেতনভাবে বিপদ ডেকে আনতে পারে৷




মন্তব্যসমূহ

★★★গত ৭ দিনের সর্বাধিক জনপ্রিয় পোস্টগুলি★★★

মাশরাফিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে মুশফিক।

ইসমাম পারভেজ কনক মাশরাফিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে মুশফিক। মুশফিকুর রহিম। মাশরাফি বিন মর্তুজাকে টপকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন মুশফিকুর রহিমের দখলে। গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের ২২০তম ম্যাচ খেলেছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের হয়ে ২১৮ ওয়ানডে খেলেছিলেন মাশরাফি। তবে এশিয়া একাদশের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলায় মাশরাফির মোট ওয়ানডে ম্যাচ ২২০টি। বাংলাদেশের জার্সিতে ২০০ র বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন সাকিব-তামিমও।

খাদ্যে ৭৪ লাখ টন ঘাটতির শঙ্কা!

ইসমাম পারভেজ কনক স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকে খাদ্যশস্যের উৎপাদন দেশে তিন গুণ বেড়েছে। বৈশ্বিক চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন তৃতীয় অবস্থানে। এ কারণে কভিডকালেও খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হতে হয়নি বাংলাদেশকে। কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে এসে খাদ্যশস্য নিয়ে এ উচ্ছ্বাস এখন অনেকটাই ফিকে হয়ে আসছে। করোনাজনিত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের খাদ্যঘাটতিতে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। খাদ্যশস্যের দামে এর প্রভাবও দেখা যাচ্ছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্কের (গেইন) প্রতিবেদনের তথ্যেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেদনটি চলতি সপ্তাহেই প্রকাশ হয়েছে। ‘গ্রেইন অ্যান্ড ফিড আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রক্ষেপণে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) দেশে চালের উৎপাদন হবে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টন, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টন কম। যদিও এ সময় দেশে খাদ্যপণ্যটির চাহিদা থাকবে প্রায় ৩ কোটি ৫৯ লাখ টন। সে হিসেবে দেশে এবার চালের ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় ১১ লাখ টনে। অন্যদিকে এ সময় দেশে গমের চাহিদা থাকবে প্রায় ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টন। যদিও উৎপাদন হবে মাত্র ১২ লাখ ২০ হাজার টন। সব মিলিয়ে দেশে এবার ...