সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

খাদ্যে ৭৪ লাখ টন ঘাটতির শঙ্কা!

ইসমাম পারভেজ কনক

স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকে খাদ্যশস্যের উৎপাদন দেশে তিন গুণ বেড়েছে। বৈশ্বিক চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন তৃতীয় অবস্থানে। এ কারণে কভিডকালেও খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হতে হয়নি বাংলাদেশকে।

কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে এসে খাদ্যশস্য নিয়ে এ উচ্ছ্বাস এখন অনেকটাই ফিকে হয়ে আসছে। করোনাজনিত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের খাদ্যঘাটতিতে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। খাদ্যশস্যের দামে এর প্রভাবও দেখা যাচ্ছে।

মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্কের (গেইন) প্রতিবেদনের তথ্যেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেদনটি চলতি সপ্তাহেই প্রকাশ হয়েছে। ‘গ্রেইন অ্যান্ড ফিড আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রক্ষেপণে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) দেশে চালের উৎপাদন হবে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টন, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টন কম। যদিও এ সময় দেশে খাদ্যপণ্যটির চাহিদা থাকবে প্রায় ৩ কোটি ৫৯ লাখ টন। সে হিসেবে দেশে এবার চালের ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় ১১ লাখ টনে। অন্যদিকে এ সময় দেশে গমের চাহিদা থাকবে প্রায় ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টন। যদিও উৎপাদন হবে মাত্র ১২ লাখ ২০ হাজার টন। সব মিলিয়ে দেশে এবার প্রায় ৭৪ লাখ ৩০ হাজার টন খাদ্যঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যে দেখা যায়, গত  অর্থবছরে (২০১৯-২০) দেশে মোট চাল উৎপাদন হয়েছিল ৩ কোটি ৮৭ লাখ ২৪ হাজার টন। চলতি অর্থবছরে এ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৯৬ লাখ টন। যদিও ইউএসডিএর প্রক্ষেপণ বলছে, এবার চালের উৎপাদন হবে লক্ষ্যের তুলনায় অনেক কম।

ইউএসডিএর ভাষ্যমতে, এ ঘাটতি পূরণের জন্য আমদানিনির্ভরতায় ফিরতে হবে বাংলাদেশকে। সেক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে শুধু গমই আমদানি করতে হবে প্রায় ৬৬ লাখ টন। সব মিলিয়ে দেশে এবার খাদ্যঘাটতি মেটাতে চাল ও গম আমদানি করতে হতে পারে প্রায় ৭৭ লাখ টন। সেক্ষেত্রে এবার স্বাধীনতার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণে খাদ্যশস্য আমদানি করতে হতে পারে বাংলাদেশকে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ যাবত্কালের সর্বোচ্চ খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছিল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। ওই সময় এর পরিমাণ ছিল ৯৭ লাখ ৭৪ হাজার টন। মূলত চালের আমদানি শুল্ক কমানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ওই বছর উৎপাদন কমে যায়। ফলে আমদানি বাড়াতে হয়। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে সরকারিভাবে খাদ্যশস্য আমদানির নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের সংশোধিত চাহিদা অনুযায়ী, এবার খাদ্যশস্য আমদানি করতে হবে ২৪ লাখ ৫৫ হাজার ৭ টন। এর মধ্যে চাল ১৮ লাখ ৬৫ হাজার টন ও গম ৫ লাখ ৯০ হাজার টন। অন্যদিকে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আনুমানিক প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টন।

এ বিষয়ে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বণিক বার্তাকে বলেন, খাদ্যশস্যের উৎপাদনে গতি ধরে রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সময়ে সঠিক পরিমাণে খাদ্যশস্য আমদানির মাধ্যমে মানুষের চাহিদা পূরণে খাদ্য মন্ত্রণালয় নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে মহামারী পরিস্থিতিতে দেশের কোথাও খাদ্য সরবরাহে সংকট তৈরি হয়নি। আবার নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ ছিল। এ কারণে দেশের খাদ্য সরবরাহ বেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মজুদ বাড়ানোর সব ধরনের উদ্যোগ চলমান রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও আমদানি—উভয় বাজার থেকে সংগ্রহ প্রক্রিয়ার গতি বাড়ানো হয়েছে। এরই মধ্যে আমদানীকৃত চাল ও গম আসতে শুরু করেছে। প্রায় ছয় লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানির উদ্যোগ নেয়ার মাধ্যমে আগামী জুন পর্যন্ত খাদ্যশস্যের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই উৎপাদনে যদি কিছুটা কমতিও থাকে সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকট তৈরি হবে না।

খাদ্যশস্যের উৎপাদনে ঐতিহাসিক সাফল্যের পরও চলতি অর্থবছরে এ আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর কারণ অনুসন্ধানের প্রয়াস চালিয়েছে বণিক বার্তা। এ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও। এসব আলোচনায় বেশকিছু বিষয়ও উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে বড় একটি কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব এবার খাদ্যশস্য উৎপাদনে পড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত ও রোগের প্রাদুর্ভাবে কয়েক বছর ধরেই গমের উৎপাদন নিম্নমুখী। উপরন্তু দেশে চাল সরবরাহের সবচেয়ে বড় উৎস বোরো ধানেও কৃষকের তেমন কোনো মুনাফা নেই। কৃষি সরবরাহ চেইনের নানা জটিলতা এখনো গ্রামের কৃষকের অর্থবিত্ত বৃদ্ধির পথে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে রয়েছে। যদিও ট্রেডার ও মধ্যস্বত্বভোগীরা সম্পদ বাড়িয়ে ক্রমেই বিত্তশালী হয়ে উঠছে। অন্যদিকে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণের পথেও রয়েছে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। মানসম্মত বীজের প্রাপ্যতা নিয়েও সংকট রয়েছে।


তথ্য বলছে, দেশের মোট আবাদি জমির প্রায় ৭৫ শতাংশেই এখনো ধানচাষ হচ্ছে। বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে প্রায় ৪৮ লাখ হেক্টরে। সে বোরো আবাদে মুনাফার দিক থেকে কৃষকের অর্জন শূন্য। উল্টো প্রতি হেক্টর বোরো আবাদে কৃষকের এখন ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৬ হাজার টাকা। এ কারণে অনেক কৃষকই বোরো আবাদে নিরুৎসাহিত হয়েছেন, যা সার্বিক উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে নীতিনির্ধারকরা বলছেন, কৃষি খাতের বড় একটি দুর্বলতা হলো পরিসংখ্যানের গরমিল। খোদ কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাকও সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন।

নীতিনির্ধারকদের এ অভিযোগের যথার্থতা পাওয়া যায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০১৬ সালের মাথাপিছু দৈনিক চালভোগের পরিমাণ নিয়ে একটি জরিপ চালিয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ইফপ্রি)। ওই জরিপে উঠে আসে, ওই বছর দেশে দৈনিক মাথাপিছু চাল ভোগের পরিমাণ ছিল ৪২৬ গ্রাম। যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় জরিপের হিসাব বলছে, ওই বছর দেশের জনগণের দৈনিক মাথাপিছু চাল ভোগের পরিমাণ ছিল ৩৬৭ গ্রাম।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি মানেই ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলে সুন্দরভাবে লিখিত পরিকল্পনাও বাস্তবায়নে গলদ দেখা দিতে পারে। জনপ্রতি চালের যে ভোগ দেখানো হচ্ছে, তাতে উৎপাদনের তথ্যের সঙ্গে বড় ধরনের চাল উদ্বৃত্তের তথ্যও থাকতে হবে। কিন্তু বাজার তথ্য সেটি বলছে না। ফলে উৎপাদন বা ভোগের তথ্যে গরমিল রয়েছে। বাজার তথ্যের সঙ্গে আমাদের প্রকাশিত সব তথ্যের এক পর্যায়ে মিল থাকা প্রয়োজন। তা না হলে নীতি প্রণয়নে বিশেষ করে চাল আমদানি কিংবা রফতানির বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেয়া মুশকিল হয়ে পড়বে। আমরা তথ্যের বিষয়ে বিবিএসের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হতে চাই। প্রয়োজনে আরো সঠিকতার জন্য বৈজ্ঞানিক বিকল্প পদ্ধতি প্রয়োগের উদ্যোগ বিবিএসকেই নিতে হবে।

কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সামগ্রিক তথ্যের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক। তার ভাষ্যমতে, বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বছরে কতটুকু উৎপাদিত হচ্ছে, চাহিদা কতটুকু বা উৎপাদন বছরে কতটুকু বাড়ছে—এসবের প্রকৃত ও সঠিক তথ্য দরকার। সেটি যৌক্তিকভাবেই করা হচ্ছে না বলে মনে করছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে আলু ও ধান-চালের দাম বৃদ্ধি এ বিষয়ে তার সন্দেহের উদ্রেক করেছে বলে সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, দেশে এসব কৃষিপণ্যের আবাদ, উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতার (একরপ্রতি) যে পরিসংখ্যান রয়েছে, তা সঠিক নয়। তবে দেশে খাদ্যশস্যের চাহিদা মেটাতে হলে আমদানিনির্ভরতা কোনো টেকসই সমাধান নয়। কারণ অর্থ থাকলেও বৈদেশিক বাজার থেকে খাবার পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। এজন্য কৃষিসংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে বিশেষ নজর বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী।

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাকের বক্তব্য হলো প্রতি বছরই দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে। করোনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেই চালের উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থানে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। সুতরাং মহামারীর মধ্যে খাদ্যের সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যেটি আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে পরিসংখ্যানগত ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও খাদ্য উৎপাদনে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হবে না। চলতি অর্থবছরে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে এরই মধ্যে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, যান্ত্রিকীকরণ বৃদ্ধিসহ উন্নত বীজের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ

★★★গত ৭ দিনের সর্বাধিক জনপ্রিয় পোস্টগুলি★★★

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ব্যবিদ্যালয়ে নতুন মুখ

ইসমাম পারভেজ কনক   রেজিস্ট্রারসহ ইবির প্রশাসনিক তিন পদে নতুন মুখ অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন,আতাউর রহমান-সহীদ,উদ্দীন মোঃ তারেক। প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ তিন পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে রেজিস্ট্রার পদে আতাউর রহমান ও প্রধান প্রকৌশলী পদে মুন্সী সহীদ উদ্দীন মোঃ তারেক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এবং পরিবহন প্রশাসক পদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) উপাচার্য অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার আইয়ুব আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। পরে নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশ থেকে পরিবহন প্রশাসক ও প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের বিষয়টি জানা যায়। অফিস আদেশে বলা হয়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম তাঁদেরকে নিয়োগ দিয়েছেন। আতাউর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব থেকে পুনঃবিন্যাস ঘটিয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং উপ-প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী সহিদ উদ্দীন মোঃ তারেককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।  পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্...

কুষ্টিয়ায় ট্রিপল মার্ডারের ময়নাতদন্ত শেষে যা জানা গেল!

ইসমাম পারভেজ কনক  কুষ্টিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তা এ এস আই সৌমেনের গুলিতে স্ত্রী,পুত্রসহ ৩ জন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। রোববার রাতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় করা এই মামলার বাদি হন নিহত শাকিলের বাবা। একমাত্র আসামি পুলিশের এএসআই সৌমেন রায়। এদিকে হত্যাকারী পুলিশের বিরুদ্ধে দুটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ সোমবার দিনের কোনো একসময় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আদালতে আনা হবে বলে জানা গেছে। রোববার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া শহরের কাষ্টমস মোড়ে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যেই ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার পর তা নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন । লাশ তিনটির ময়নাতদন্ত করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার।   তাপস কুমার সরকার সাংবাদিকদের জানান, তিনজনকে দুটি করে ছয়টি গুলি করা হয়েছে। প্রত্যেকের মাথায় কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। প্রথমে শাকিল খানের ময়নাতদন্ত করা হয়। তার মাথার বাম পাশে গুলি করা হয়েছে। এ ছাড়া তার ডান পায়ের ঊরুতে গুলির চিহ্ন রয়েছে। এরপর আসমা খাতুনের ময়নাতদন্ত করা হয়। আসমার মাথা ও গলায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। সবশেষে শিশু রবিনের (৬) ...

অল্প সুদে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

ইসমাম পারভেজ কনক   ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ আসছে বলে জানিয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। এক্ষেত্রে অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) করোনাকালে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ভূমিকা শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব এসব কথা বলেন। প্রণোদনা প্যাকেজটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য বৃহস্পতিবারই (১৪ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান সিনিয়র সচিব। আসাদুল ইসলাম বলেন, একটি প্রণোদনা প্যাকেজ অর্থমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ দিতে যাচ্ছি। এটা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবো। অক্টোবর মাসে এটা নিয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করতে বলা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ২০ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল সেটার ডিসবার্সমেন্টটা ভালো ছিল না। অনেক চাপ প্রয়োগ করেছি, ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটা অনীহাও ছিল। আর একটা পরিস্থিতি তারা ফেস করেছে, সেটা হলো তাদের কাছে (ক্ষুদ্র উদ্য...

অনলাইনে বাস্তব ইনকাম পর্ব-০৬

ইসমাম পারভেজ কনক আপনি যদি নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন তাহলে নিশ্চয়  ফ্রিল্যান্সিং  বা  আউটসোর্সিং  এর মাধ্যমে  অনলাইনে আয়  করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু  অনলাইনে আয়  সে তো মরীচিকা, হয়তো অনেকবার চেষ্টা করেছেন কিন্তু সফল হননি। এই সেদিন আপনার পাশের বাড়ির কুদ্দুছ বা পরিচিত রহিমও টাকা পয়সার জন্য হা-হুতাশ করতো। কিন্তু  অনলাইনে ইনকাম  করে তাদের জীবন ধারাও পাল্টাতে শুরু করেছে। সারাক্ষণের সঙ্গী হাতের স্মার্টফোন বা মুভি দেখার কম্পিউটার টাই যদি হয়ে যায় আপনার উপার্জনের মাধ্যম, তাহলে নিশ্চয় মন্দ হয় না। আর আপনি যদি পরের অধীনে কাজ না করে স্বাধীন ভাবে আয় উপার্জন করতে চান তাহলে আপনার  ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার  শুরু করার জন্য এই লেখাটি হতে পারে সঠিক দিক নির্দেশনা।   কন্টেন্ট রাইটিং বা লেখালেখি ইন্টারনেটে অর্থ উপার্জন করার অন্য আরেকটি জনপ্রিয় উপায় হল বিভিন্ন ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য কন্টেন্ট লেখা। আপনি বিভিন্ন ব্লগ, কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, পন্য নিয়ে লিখতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের লেখার জন্য কন্টেন্ট রাইটাররা বিভিন্ন পরিমানে পারিশ্রমি...

‘রিলেশন থাকলেই ধর্ষণ-হত্যার অধিকার তো রাখে না’:আনুশকার মা

ইসমাম পারভেজ কনক কলাবাগানে ধর্ষণ-হত্যার শিকার ছাত্রীর মা বলেছেন, ‘বলা হচ্ছে, দিহানের সঙ্গে মেয়ের রিলেশন ছিল, মানলাম। কিন্তু রিলেশন থাকলেই ধর্ষণ বা মেরে ফেলার অধিকার তো রাখে না।’  গতকাল বুধবার নিজ বাসায় প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ৭ জানুয়ারি রাজধানীর কলাবাগানে ধর্ষণের শিকার হয় ‘ও’ লেভেলে পড়ুয়া ছাত্রী। সেখান থেকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মেয়েটি মারা যায় বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।  এই মা বলেন, তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় একজন নয়, একাধিক মানুষ জড়িত ছিল। তিনি জড়িত সবার যথোপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।  মেয়েকে হারিয়ে এই মা বলেন, মেয়ে ২০ মিনিটের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু সে আর ফিরে এল না।  মারা যাওয়া মেয়েটির রুমে বসেই কথা বলেন মা। মেয়ের রুম সাদা ও বাদামি রঙে ছিমছাম করে সাজানো। পড়ার টেবিলে পড়ে আছে পারিবারিক একটি অ্যালবাম। মেয়ের বইসহ অন্যান্য জিনিস সাজিয়ে রাখা আছে। মা জানালেন, মেয়ে হালকা রং পছন্দ করত। মেয়ের পছন্দেই ঘরের পর্দা কেনা হয়েছিল।    এই মা বলেন, ‘মেয়ে স্বেচ্ছায় সেখানে গেছে, তা বিশ্বাস করি না। অচেতন করে বা যেভাবেই হোক, মেয়েকে নেওয়া ...

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পাহাড়পুরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৩

ইসমাম পারভেজ কনক কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার ফিরােজ আহমেদ কটার নেতৃত্বে দু'পক্ষের সংঘর্ষ হয়, আহত ৩ আজব শেখ (৫৫), রজব শেখ (৪৫), আমিরুল সেখ (৪৭),গতকাল ৬/জুলাই আনুমানিক রাত ৯/ টার দিকে তারা তিনজন বাঁধ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পাহাড়পুর গ্রামের মমিনের বাড়ির সামনে থেকে কটা মেম্বার এর নেতৃত্বে একদল দুবৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপরে হামলা করে ফলে তিনজনই গুরুতরভাবে আহত হয় তারা এখন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

জিপিটি সাইটে কীভাবে রেজিষ্ট্রেশন করবেন?

ইসমাম পারভেজ কনক   জিপিটি সাইটের রেজিষ্ট্রেশন পিটিসি সাইটের মতই।তাই যারা পিটিসি সাইট খুলেছেন।তারা একইভাবে জিটিসি সাইট খুলুন।এখানে ক্লিক্সসেন্সের মাধ্যমে দেখানো হল।তবে সকল পিটিসি এবং জিটিসি সাইটের রেজিষ্ট্রেশন এবং লগিন সিস্টেম একই রকম। রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া এবার আসল কাজ শুরু। clixsense পলিসি অনুযায়ী সাইটে সাইনআপ করতে হলে আপনাকে কোন রেফারেল আইডি হয়ে রেজিঃ করতে হবে। কেননা, আপনি যখন Referral এবং Advertisement শুরু করবেন সেখানে ইনকাম বৃদ্ধিতে বেশ সহায়ক হবে। রেফারেল না হয়ে  সরাসরি সাইনআপ করতে পারবেন। তবে তা clixsense সার্ভারে  Non Improve ID হিসাবে রেকর্ড থাকবেন। আমি যখন Signup করেছিলাম তখন অন্য একটি Referral আইডির মাধ্যমে Pass করেছিলাম। যাইহোক এবার বিষয়টি আপনার ইচ্ছা কোন পদ্ধতিতে রেজিঃ করবেন! রেজিঃ করতে প্রথমে তাদের সাইটে যান  এখানে ক্লিক করুন। সেখান হইতে সাইনআপে ক্লিক করুন> নিম্নরুপ চিত্র আসবে > যাবতীয় তথ্যাদি পূরন করুন।তবে ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড অবশ্যয় মনে রাখবেন অথবা কোথাও লিখে রাখুন। First name অংশে নিজের আসল নামের  First name পূরন করে Last name দেন। ...

কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়া বাজারে সলিং ও ড্রেন নির্মাণ কাজে অনিয়ম

ইসমাম পারভেজ কনক  কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার উজান গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের বিত্তিপাড়া বাজারে  সলিং ও নিম্ন মানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা এ বিষয়ে অভিযোগ তুলেছে। স্থানীয় ইউপি দুই মেম্বর  ফরিদা ও স্কেন্দার বাজারটিতে এডিবির অর্থায়নে সলিং বাবদ-১০৭,৭০০/ =ড্রেন বাবদ ১৫৯,০০০/=  টাকার নির্মান কাজ পরিচালনা করছে।  কিন্তু নিম্নমানের ইট কাদা মিশ্রিত বালি দিয়ে নিম্নমানের কাজ করায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নিম্ন মানের ইট কাদা মিশ্রিত বালি যেটা নির্মান কাজের জন্য মোটেও উপযুক্ত নয় আর ইটের মাঝখানে কোন মশলা ছারাই কাজ করে ফেলছে এতে করে মজবুত না হওয়ায় সাথে সাথে ভেঙ্গে পরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। । তারা ভাল মানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে কাজ করার দাবি জানান। নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারনে স্থানীয়রা ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার পর সাংবাদিক সরজমিনে গেলে এই চিত্র ফুটে উঠে।

ঠিকাদারি ব্যবসা ছেড়ে মাছ ও ফল চাষে বাজিমাৎ!

ইসমাম পারভেজ কনক   কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের আহম্মেদপুর এলাকার হযরত আলী (৬০) পেশায় ছিলেন একজন ঠিকাদার। বয়স বাড়ায় ছাড়তে হয়েছে এ পেশা। এরপর নিজেকে বেকার মনে হওয়ায় গড়ে তোলেন পুকুর, গরুর খামার আর মিশ্র ফলবাগান। আর তাতেই বাজিমাৎ। এখন তিনি এলাকায় উদ্যোক্তাদের রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, খামারে মোট ২৪টি ছোট বড় পুকুরে বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ হচ্ছে। তার পাশেই আছে কাটিমন আম, পেয়ারা, লেবু, কমলা, মাল্টা, পেঁপেসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের ফলবাগান। বাগানের পাশেই একটি শেডে ৬টি গাভী পালন করা হয়। এই মিশ্র ফল বাগান ও খামার থেকে হযরত আলীর বার্ষরিক আয় ৫-৭ লাখ টাকা। আরও জানা গেছে, হযরত আলীর মাছ চাষ ও ফলবাগান দেখে গ্রাম ও আশপাশের এলাকার অনেকে উদ্বুদ্ধ। অনেকে একই উদ্যোগ নিয়ে এখন স্বাবলম্বীও হয়েছেন। প্রতিদিন তার বাগান দেখতে ভিড় করেন বহু মানুষ। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের আহম্মেদপুর এলাকার হযরত আলী (৬০) পেশায় ছিলেন একজন ঠিকাদার হযরত আলী জানান, তার বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও সাতক্ষীরায় ব্যবসা ছিল। পেপার্স প্রিন্টিং প্রেস ও ঠিকাদারী ব্যবসা করতেন সেখানে। কিন্তু এখ...

কুষ্টিয়ার জোতপাড়া গ্রামে বিষপানে শামীম নামের এক যুবকের মৃত্যু

ইসমাম পারভেজ কনক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উত্তর জোতপাড়া গ্রামের রজব আলী কটার  ছেলে হাসমত আলী  ওরফে শামীম  (১৯.০৬.২০২১) আনুমানিক  বিকেল ৫.৩০ মিনিটে  কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে  ইন্তেকাল করেন। জানা যায়,পারিবারিক কলোহের জেড়ে শামীম এক পর্যায়ে বিষপান করেন।বিষপানের পর তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সত্যই কি পারবারিক কলোহের জেড়ে বিষপান করে শামীম মারা গেল,নাকি অন্য কোনো কারণ আছে।সেইটা এখনও রহস্যই রয়ে গেছে।