সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

‘রিলেশন থাকলেই ধর্ষণ-হত্যার অধিকার তো রাখে না’:আনুশকার মা

ইসমাম পারভেজ কনক








কলাবাগানে ধর্ষণ-হত্যার শিকার ছাত্রীর মা বলেছেন, ‘বলা হচ্ছে, দিহানের সঙ্গে মেয়ের রিলেশন ছিল, মানলাম। কিন্তু রিলেশন থাকলেই ধর্ষণ বা মেরে ফেলার অধিকার তো রাখে না।’

 গতকাল বুধবার নিজ বাসায় প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ৭ জানুয়ারি রাজধানীর কলাবাগানে ধর্ষণের শিকার হয় ‘ও’ লেভেলে পড়ুয়া ছাত্রী। সেখান থেকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মেয়েটি মারা যায় বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
 এই মা বলেন, তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় একজন নয়, একাধিক মানুষ জড়িত ছিল। তিনি জড়িত সবার যথোপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।

 মেয়েকে হারিয়ে এই মা বলেন, মেয়ে ২০ মিনিটের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু সে আর ফিরে এল না। 

মারা যাওয়া মেয়েটির রুমে বসেই কথা বলেন মা। মেয়ের রুম সাদা ও বাদামি রঙে ছিমছাম করে সাজানো। পড়ার টেবিলে পড়ে আছে পারিবারিক একটি অ্যালবাম। মেয়ের বইসহ অন্যান্য জিনিস সাজিয়ে রাখা আছে। মা জানালেন, মেয়ে হালকা রং পছন্দ করত। মেয়ের পছন্দেই ঘরের পর্দা কেনা হয়েছিল।  

 এই মা বলেন, ‘মেয়ে স্বেচ্ছায় সেখানে গেছে, তা বিশ্বাস করি না। অচেতন করে বা যেভাবেই হোক, মেয়েকে নেওয়া হয়েছে। এটা পরিকল্পিত ছিল।’ সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে বলেন, হাসপাতালে তিনি চারজনকেই দেখেছেন। তাঁকে মেয়ের অসুস্থতার কথা বলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দিহান নামের ছেলেটি তাঁকে ফোন দিয়েছিল। 

তিনি বললেন, ‘দিহান আমার পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি শুরু করে। পরে ওরা চারজন বসা ছিল সোফায়। এই  চারজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। দিহান তো স্বীকারোক্তি দিয়েছে। অন্যরা জড়িত থাকলে তাদেরও বিচার চাই। ধর্ষণের সহযোগী হলে সে হিসেবেই শাস্তি পাবে। আর চারজনই ধর্ষণ করলে তাদের সেভাবেই বিচারে আনা হোক।’

ও-লেভেলে পড়ুয়া মেয়েটির মা জানালেন, তিনি মামলার প্রধান আসামির কাছে হাসপাতালে জানতে চেয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে মেয়ের কীভাবে দেখা হলো? তখন জানায়, ‘তারা চার বন্ধু আর আমার মেয়ে ছিল। বাসায় কেউ ছিল না। ফাঁকা ছিল। এমনি এমনি সেন্সলেস হয়ে গেল? এ প্রশ্ন করা হলে তখন আর কথা বলে না।’

মেয়েকে হাসপাতালে যে অবস্থায় দেখেছিলেন সে প্রসঙ্গে মা বললেন, ‘শুনলাম মেয়ের ব্লিডিং হচ্ছে, মারা গেছে। দেড় ঘণ্টা পর মেয়েকে দেখতে দিল। দেখলাম বেডে, যে কাপড় ছিল সবখানে রক্তে ভিজে গেছে। বিধ্বস্ত। মনে হলো ওর শরীরে রক্ত নাই। একবার তাকিয়ে আর মেয়ের দিকে তাকাতে পারিনি। ডাক্তার জানালেন, মৃত অবস্থায় পেয়েছেন, তার মানে বাসা থেকেই মেয়েকে মৃত এনেছে।’

মা বললেন, ‘হাসপাতালে আমার এক বান্ধবী ছিল। জরুরি বিভাগে বান্ধবী ওর ফোন দিয়ে মেয়ের ছবি তোলে। পিঠে এবং শরীরে দাগ আছে। ও যে টর্চার হয়েছে, তার প্রমাণ। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ময়নাতদন্তের পর প্রাথমিকভাবে যা জানিয়েছেন, তা তো সবাই জানেন। মেয়েকে বিকৃতভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান দাগের কথা অস্বীকার করলেও তার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।’

এই মা জানালেন, মেয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বন্ধুর মতো ছিল। পড়ালেখার চাপ ছিল মেয়ের। খাওয়াদাওয়া কম করত। খেতে বললেই বলত, খেতে ইচ্ছে করছে না। তখন রেগে যাওয়ার ভাব করলে মেয়ে হেসে বলত, ‘রাগো রাগো, তুমি তো আমার বান্ধবী, রাগতে পারবে?’ মা বললেন, ‘ও সব কথা আমাকে বলত। রিলেশন যদি হয়ে থাকত, ও আমাকে না বলে থাকত না।’

এক মাস আগে খাবার টেবিলে গ্রামের বাড়িতে কবরস্থান মেরামতের আলোচনা হয়। তখন হুট করেই মেয়ে জানতে চায়, সে মারা গেলে তাকে কোথায় রাখবে? মা তখন হেসে বলেছিলেন, এসব কথা এখন কেন, যখন লাগবে দেখা যাবে। মা মেয়ের স্মৃতিচারণা করে বলেন,‘ দুই মেয়ে একসঙ্গে ঘুমাত। প্রতি রাতেই দুই মেয়েকে দেখে যেতাম। গায়ে কম্বল আছে কি না, দেখতাম। সকালে গাড়ি চলে আসায় তাড়াতাড়ি গাড়ি ধরার জন্য মেয়েদের গায়ে কম্বল টেনে চলে যাই। সকাল ১১ টার দিকে মেয়ে ফোন দেয়, জানায়, কোচিংয়ে পেপার আনতে যাবে, অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। একা যাচ্ছে বলে সাবধানে যেতে বলি। ২০ মিনিটের কথা বলে বের হয়েছিল, তারপর কীভাবে ওই ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ হলো, তা জানি না।’

মা জানালেন, পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান আসামির বাসার বিছানার চাদর, বালিশ, মেয়ের গায়ের কাপড়ে রক্তের দাগ ছিল। পুরো রুম, সিঁড়িতেও নাকি রক্ত ছিল।
তিনি বলেন, তাঁর মেয়েসহ সব ধর্ষণ মামলার আসামিদের কঠোর শাস্তি চাই। আর কোনো মেয়ের সঙ্গে যাতে এমন না হয়।

মন্তব্যসমূহ

★★★গত ৭ দিনের সর্বাধিক জনপ্রিয় পোস্টগুলি★★★

মাশরাফিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে মুশফিক।

ইসমাম পারভেজ কনক মাশরাফিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে মুশফিক। মুশফিকুর রহিম। মাশরাফি বিন মর্তুজাকে টপকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন মুশফিকুর রহিমের দখলে। গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের ২২০তম ম্যাচ খেলেছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের হয়ে ২১৮ ওয়ানডে খেলেছিলেন মাশরাফি। তবে এশিয়া একাদশের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলায় মাশরাফির মোট ওয়ানডে ম্যাচ ২২০টি। বাংলাদেশের জার্সিতে ২০০ র বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন সাকিব-তামিমও।

অনলাইনের সকল সাইটের ডলার এক্সচেঞ্জ করুন বিকাশ/রকেট/নগদে।

ইসমাম পারভেজ কনক ফ্রি VIP SKRILL একাউন্ট করতে চাইলে লেখার উপর ক্লিক করুন।অনলাইনে থেকে টাকা উঠানোর জন্য গূরুত্বপূর্ণ একাউন্ট। এখন থেকে অনলাইনে কাজ করে টাকা উঠানোর আর কোন টেনশন নাই।খুব সহজে আপনি অনলাইনে যেকোন সাইটে কাজ করে টাকা উঠাতে পারবেন বিকাশের মাধ্যমে মাত্র ৫ মিনিটে। আমাদের দেশে এখন অনেক ফ্রিলান্সার আছে। যারা অল্প অল্প করে ডলার জমিয়েছে নিজেদের একাউন্টে। তবে সমস্যা হল যখন এই ডলারটির কোন কাজে ব্যবহার করতে না পারে বা ক্যাশ করা নিয়ে।এটাকে টাকা বা চেকে বাংলাদেশে আনতে বেশ পরিশ্রম এবং সময়ের কাজ।আর কাজ করবো টাকা উঠাবো কীভাবে?আমার ব্যাংক একাউন্ট নাই।অনেক সমস্যা ভেবে অনেকেয় কাজ করতে চাই না।আর দুুশ্চিন্তায় ভোগেন।তাই আপনাদের  কথা চিন্তা করে Dollar Store BD সব রকম সাইট থেকেয়  টাকা বিকাশে/রকেটে /নগদে/DBBL এ ৫ মিনিটে মানি এক্সসেঞ্জ করার সার্ভিস চালু করেছে। যেভাবে সার্ভিসটি নেয়া যায়ঃলিংকে যান। লেখার উপর ক্লিক করুন। সেন্ড এ আপনি যে একাউন্ট থেকে টাকা পাঠাবেন।অর্থাৎ আপনি যে সাইটে কাজ করেছেন,সেই সাইটের টাকা উঠানোর কোন সাইটের নাম সেন্ড অপশন থেকে সিলেক্ট করবেন।তারপর রিসিভ এ বিকাশ পারসোনাল/...

খাদ্যে ৭৪ লাখ টন ঘাটতির শঙ্কা!

ইসমাম পারভেজ কনক স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকে খাদ্যশস্যের উৎপাদন দেশে তিন গুণ বেড়েছে। বৈশ্বিক চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন তৃতীয় অবস্থানে। এ কারণে কভিডকালেও খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হতে হয়নি বাংলাদেশকে। কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে এসে খাদ্যশস্য নিয়ে এ উচ্ছ্বাস এখন অনেকটাই ফিকে হয়ে আসছে। করোনাজনিত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের খাদ্যঘাটতিতে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। খাদ্যশস্যের দামে এর প্রভাবও দেখা যাচ্ছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্কের (গেইন) প্রতিবেদনের তথ্যেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেদনটি চলতি সপ্তাহেই প্রকাশ হয়েছে। ‘গ্রেইন অ্যান্ড ফিড আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রক্ষেপণে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) দেশে চালের উৎপাদন হবে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টন, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টন কম। যদিও এ সময় দেশে খাদ্যপণ্যটির চাহিদা থাকবে প্রায় ৩ কোটি ৫৯ লাখ টন। সে হিসেবে দেশে এবার চালের ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় ১১ লাখ টনে। অন্যদিকে এ সময় দেশে গমের চাহিদা থাকবে প্রায় ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টন। যদিও উৎপাদন হবে মাত্র ১২ লাখ ২০ হাজার টন। সব মিলিয়ে দেশে এবার ...