সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শবে বরাতের প্রকৃত তাৎপর্য ও ফজিলত

ইসমাম পারভেজ কনক

‘শবে বরাত’ ফারসি শব্দ। ‘শব’ অর্থ- রাত আর ‘বরাত’ অর্থ ভাগ্য। দু’টো শব্দ একত্রে করলে হয় ‘ভাগ্যের রাত বা ভাগ্যের রজনী। শবে বরাত নিয়ে মুসলিম উম্মাহর মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। এ রাত সর্ম্পকে একপক্ষের মত হল, এ রাতে প্রত্যেক মানুষের ভাগ্য লিখে দেয়া হয়। তাই এ রাতে অনেক বেশি নামাজ পড়ে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে হয়।

যারা শবে বরাত পালন করেন, তাদের মতে ১৫ই শাবান মহানবী (সা.) রোজা রাখতেন এবং রাতে কবর যিয়ারত করতেন ও বেশি নফল নামাজ পড়তেন। তাই দিনে রোযা রাখতে হবে এবং রাতে নফল নামাজ পড়তে হবে এবং কবর জিয়ারত করতে হবে। আরো বলা হয় এ রাতে মৃত আত্মারা পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং তাদের আত্মীয়স্বজনদের দেখে যায়। অনেকে এটিও বলেন, জান্নাতে একটি গাছ আছে যার পাতাগুলোতে পৃথিবীতে বসবাসকারী মানুষের নাম লেখা আছে যে পাতাগুলো এ রাতে পড়ে যায়, সে পাতাতে যে সব মানুষের নাম লেখা থাকে তারা এ বছর মারা যাবে। অনেকের মতে এ রাতে মানুষের জীবন ও মৃত্যু সর্ম্পকে সিদ্ধান্ত হয়। বলা হয় এ রাতে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং বলেন কে আছে যে ক্ষমা চাইবে আর আমি ক্ষমা করবো। কে আছে যে চাইবে আর আমি তাকে দিব।
যারা শবে বরাত পালন করেন তারা এর পক্ষে পবিত্র কুরআনের সুরা দুখানের ৩-৫ নম্বর আয়াত উপস্থাপন করে থাকেন। যেখানে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন- ‘আমি একে নিশ্চয় এক আশিষপূর্ণ রাতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নিশ্চয় আমিই রাসুল প্রেরণ করে থাকি।’

তারা কিছু হাদিসও উপস্থাপন করে থাকেন। হজরত আয়িশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে দাঁড়ালেন এবং এত দীর্ঘ সেজদা করলেন যে আমার ধারণা হলো, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন; আমি তখন ওঠে তার পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম, তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল; তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়িশা! তোমার কি এ আশঙ্কা হয়েছে? আমি উত্তরে বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)! আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার আশঙ্কা হয়েছিল আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না? নবীজি (সা.) বললেন, তুমি কি জানো এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলই ভালো জানেন। তখন নবীজি (সা.) বললেন, এটা হলো অর্ধশাবানের রাত; এ রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন; ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করে দেন, অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন। (শুআবুল ইমান, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৮২)।
কিছু লোকদের মতে, দ্বিতীয় হিজরিতে কিবলা পরিবর্তন হয়। আর সে দিনটি ছিল ১৫ই শাবান। এ জন্য এ দিনটি উদযাপন করা হয়। অনেক আলেমগণ শবে বরাতকে সুরা দুখানের আয়াতে বর্ণিত ‘লায়লাতুন মুবারাকাতুন’ বলে থাকে।
আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরান, ভারত ও বাংলাদেশ শবে বরাত অত্যন্ত জমকালোভাবে পালন করা হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো সউদি আরবে শবে বরাত বলতে কোন অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয় না। অপর দিকে যারা শবে বরাত পালন করেন না তাদের যুক্তি হল, এ রাত সম্পর্কে যে ধ্যান ধারণা অনেক মুসলমানদের মধ্যে রয়েছে, এর কোন প্রমাণ কুরআন, সুন্নাহ ও হাদিসে পাওয়া যায় না। তারা বলেন মহানবীর (সা.) যুগে তো নয়ই, বরং তাবেঈনদের যুগেও এর কোন নামগন্ধ পাওয়া যায় না। শবে বরাত ইরান থেকে অন্যান্য দেশে ছড়িয়েছে। ‘শবে বরাত’ ফার্সি শব্দটিও এদিকে সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে। আসলে লায়লাতুল কাদর এর ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করলে শবে বরাত হয়। ‘শব’ ফারসি শব্দ। এর অর্থ হলো রাত এবং বরাতও ফার্সি শব্দ। এর অর্থ হল ভাগ্য। তারা বলেন এ শব্দটি কুরআন ও হাদিসের কোথাও ব্যবহার হয়নি। তবে এর বিপরীতে সুরা কদরে ‘লায়লাতুল কাদর’ শব্দ পাওয়া যায় যা রমজানের সাথে সম্পৃক্ত শাবান মাসের সাথে নয়।

সুরা দুখানের যে আয়াতটি শবে বরাত সর্ম্পকে দলীলরূপে উপস্থাপন করা হয় তা ঠিক নয়। সুরা দুখানের ৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন ‘আমি একে নিশ্চয় এ আশীষপূর্ণ রাতে অবতীর্ণ করেছি।’ এখানে ‘হু’ অর্থাৎ ‘একে’ সর্বনামটি কার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে তা নির্ণয় করতে হবে। সব মুফাসসিরগণ এ সর্বনামটি কুরআনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে একমত। এখন প্রশ্ন হল কুরআন কবে অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়েছে শাবান মাসে না রমজান মাসে? পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন ‘রমজান সেই মাস যাতে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৪) অতএব পবিত্র কুরআন রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। উম্মতে মোহাম্মাদিয়া একমত যে, কুরআন রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সুরা দুখানে বর্ণিত ‘লায়লাতুন মুবারাকা’ শাবান মাসের নয় বরং রমজান মাসের রাত বলে আল্লাহ তাআলা নির্ণয় করছেন। যাদের মতে ‘লায়লাতুন মুবারাকা’ শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত, তারাও এ কথাটি মানেন যে, কুরআন রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়েছে।
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.), হজরত ইবনে ওমর (রা.), মুজাহিদ, কাতাদা ও হাসান বসরির মতো প্রখ্যাত তাফসীরকারকগণ ‘লায়লাতুন মুবারাকা’ বলতে ‘লায়লাতুল কদর’কে আখ্যায়িত করেছেন। যারা শবে বরাত পালন করেননা তারা আরো বলেন, ‘শবে বরাত’ বা ‘লায়লাতুল মুবারাকা’ হল লায়লাতুল কদর তা কুরআন থেকেই প্রমাণিত হয়। আর এটিও সুস্পষ্ট কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এ ঘোষণা স্বয়ং আল্লাহ্ তাআলার। ১৫ই শাবানের রাতের উল্লখ পবিত্র কুরআনের কোথাও নেই।

এখন প্রশ্ন ওঠে এ রাতে মৃত্যু অথবা ভাগ্য নির্ধারিত হয় অথবা মৃত আত্মীয়স্বজনদের আত্মা পৃথিবীতে আসে এসব কি? এর উত্তর হল কুরআনে ও হাদিসে এর কোন উল্লেখ নেই। মৃত্যু সর্ম্পকে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ মরতে পারে না। সেজন্য এক মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে। (সুরা আলে ইমরান : ১৪৫) আল্লাহ আরো ইরশাদ করেন, ‘তিনি বৃষ্টি অবতীর্ণ করেন। আর গর্ভাশয়ে যা-ই আছে তিনি তা জানেন। আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে এবং এটাও কেউ জানে না কোন স্থানে সে মারা যাবে।’ (সুরা লুকমান : ৩৩)

এছাড়া আরো বহু আয়াত রয়েছে যা থেকে জানা যায় মৃত্যু সর্ম্পকিত বিষয়াদী আল্লাহ তাআলা শাবানের ১৫ তারিখ নির্ধারণ করেন না বরং এই তকদীর বা পরিমাপ আল্লাহর হাতে এবং এটা তিনি লায়লাতুল কাদরের রাতেও তা নির্ধারণ করেন না। এ মেয়াদ জন্ম হতেই নির্ধারিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি সবকিছু এক পরিমাপে সৃষ্টি করেছি। আর আমাদের আদেশ চোখের পলক ফেলার ন্যায় এক নিমিষেই (কার্যকর হয়)।’ (সুরা কামার : ৫০) পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’লা বলেন, হে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া সেভাবেই অবলম্বন কর যেভাবে তার তাকওয়া অবলম্বন করা উচিত। আর তোমরা কখনো আত্মসমর্পণকারী না হয়ে মৃত্যু বরণ কর না।’ (সুরা আলে ইমরান : ১০২) মৃত্যু যদি ‘লায়লাতুল মুবারাকাতে’ নির্ধারিত হয় তবে এ আয়াতের কি অর্থ করবেন?

ইসলাম এটি বলে না যে একদিন বা এক রাতে ইবাদত কর, আর প্রয়োজন নেই। আল্লাহ, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, তাকওয়া, দানখয়রাত এক রাত বা একদিনের ব্যাপার নয়। এ এক নিয়মিত কর্ম। যদি এক রাতেই বছরের সব কিছু নির্ধারিত হয় তবে এক রাতের পর সারা বছর ইবাদত আর আমলের কোন প্রয়োজন থাকে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি বল, হে আমার বান্দারা যারা নিজেদের প্রাণের ওপর অবিচার করেছ! তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সব পাপ ক্ষমা করে দিতে পারেন। নিশ্চয় তিনিই অতি ক্ষমাশীল ও বার বার কৃপাকারী।’ (সুরা আয যুমার : ৫৩)

এ আয়াত আল্লাহর ক্ষমার দ্বার এক রাতের জন্য নয় বরং প্রতিটি মুহূর্তের জন্য খুলে দিয়েছে। প্রকৃত তওবা করলে যে কোন দিন, যে কোন রাত, যে কোন মূহুর্তে সে আল্লাহর কৃপার অধিকারী হতে পারে। তাই আল্লাহর সিদ্ধান্ত বান্দার আমলের কারণে হয়। ইসলামে কর্ম হলো এক চলমান প্রক্রিয়া যা জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত করে যেতে হবে।

হাদিসের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় মহানবী (সা.) ‘আইয়্যামুল বীজ’ অর্থাৎ আলোকিত দিনগুলোতে প্রতি মাসে রোজা রাখতেন। আর এ দিনগুলো হল প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ। এ সর্ম্পকে বুখারি, নাসাঈ ও মুসনাদ আহমদ বিন হাম্বলে সহিহ রেওয়াত রয়েছে। সুতরাং এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, মহানবী (সা.) শুধুমাত্র শাবানের ১৫ তারিখে রোজা রাখেন নি বরং প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রেখেছেন।

তবে বিভিন্ন রেওয়াত হতে জানা যায় শাবান মাসে মহানবী (সা.) অনেক বেশি রোজা রাখতেন এবং ইবাদত-বন্দেগী করতেন। রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে যে এ রোজাগুলো রাখতেন এতে অধিকাংশ মুহাদ্দেসীন একমত। একজন প্রকৃত মুসলমান হিসেবে আমাদের করণীয় হচ্ছে পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ও মহানবীর (সা.) জীবনাদর্শের ওপর পরিপূর্ণ আমল করে চলা।

পরিশেষে এটাই বলব, মহানবীর (সা.) জীবনাদর্শ থেকে ১৫ শাবানের রাতে উঠে দোয়া করার বিশেষ কোন শিক্ষা যদি আমরা পেয়ে থাকি তাহলে আমাদেরও উচিত হবে রাতে উঠে গোপনে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে দোয়া করা। মহানবী (সা.) রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে শাবান মাসের রাতগুলোতে বিশেষভাবে দোয়া করতেন। আমাদেরও দোয়া করা উচিত, হে আল্লাহ! আমার জন্য রমজান যেন মুবারক হয়, আমাকে সুস্থ রাখ, আমি যেন রমজানের রোজা রাখতে পারি।

তাই আসুন, পবিত্র শাবান মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোতে রমজানের পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করি আর ব্যক্তিগত ব্যস্ততাগুলোকে গুটিয়ে নিয়ে আসি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষার ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন, আমিন।

মন্তব্যসমূহ

★★★গত ৭ দিনের সর্বাধিক জনপ্রিয় পোস্টগুলি★★★

কুষ্টিয়া হোন্ডা সার্ভিসিং সেন্টারে খারাপ সার্ভিসিং ও পার্সের দাম বেশী নেয়ার অভিযোগ

ইসমাম পারভেজ কনক কুষ্টিয়াতে হোন্ডা সার্ভিসিং সেন্টারে গাড়ি সার্ভিসিং বন্ধ করুন,এরা দিনে দুপুরে ডাকাতি করে কুষ্টিয়ার হোন্ডা সার্ভিসিং সেন্টার বিশাল বড় বাটপার।এখানে কেউ গাড়ী সার্ভিসিং করাবেন না।হোন্ডা সার্ভিসিং সেন্টারে আপনার গাড়ির কোনো পার্স নষ্ট না হলেও সেইটা নষ্ট বানিয়ে বিক্রি করে।তাছাড়া হোন্ডার সার্ভিসিং সেন্টারে সকল পার্সের দাম অনেক অনেক বেশী।এরা ১০০ টাকার পণ্য বিক্রি করে ৫০০ টাকায়।আর এদের পার্স আর কেউ বিক্রি করে না এই কথা বলে বেশী টাকা হাতিয়ে নেয়।তাছাড়া ১ বছর গেলেয় এরা সার্ভিসিং ফি নিয়ে থাকে।সার্ভিসিং ফি এর সাথে সাথে আরও যেকোনো পার্স বিক্রির চেষ্টা করে।এরা ১০ টাকা পার্স বিক্রি করে ৫০ টাকা।সাথে আবার সার্ভিস চার্জ।সকল পার্সের দাম বেশী এবং বাটপারি করার অভিযোগে আমি সার্ভিস সেন্টারে গিয়েছিলাম।আমার গাড়ির সামনের ব্রেক সু লাগবে বললাম।কিন্তু বললো নায়।আগে গাড়ির ব্রেক সু এর দাম দাম চেয়েছিল ৬০০ টাকা আর সার্ভিসিং ফি ২০০ টাকা।মোট লাগবে ৮০০ টাকা।কিন্তু আমি পরিবর্তন করি নাই।জানি এরা বাটপারি করতেছে।তারপরে আরও যাচাই বাচাই করার জন্য সময় নিলাম।আর যদি সাথে গাড়ির অন্য কোনো ধরনের ছোট কাজও করায়।তাহলে দ...

একই সাথে দুই পদে সরকারি বেতন-ভাতা নিচ্ছেন কানু!

ইসমাম পারভেজ কনক কানু কুমার নাথ - ছবি : সংগৃহীত চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ সচিব কানু কুমার নাথ একই সাথে দুটি পদে গত দুই যুগ ধরে নিয়মিত চাকরি করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি এতদিন ধরে দুই পদের সরকারি বেতন-ভাতাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এসেছেন। জানা গেছে, প্রতি মাসে তিনি সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা বেতন পেয়ে থাকেন। কানু কুমার নাথ একটি কলেজের বাংলা বিষয়ের এমপিওভুক্ত অধ্যাপক এবং একই সাথে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক ব্যক্তির দ্বৈত জন্ম নিবন্ধন সনদ জালিয়াতির তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে হাটহাজারী উপজেলার ৩ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কানু কুমার নাথের একই সাথে দুই পদে চাকরি করার তথ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কানু কুমার নাথ চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার হেঁয়াকো বনানী ডিগ্রি কলেজে বাংলা বিষয়ের অধ্যাপক। ১৯৯৪ সালে নিয়োগ পেয়ে তিনি এ কলেজে এমপিওভুক্ত হন এবং একই পদে কর্মরত আছেন ২৬ বছর ধরে। তথ্য গোপন করে তিনি একই সাথে ১৯৯৫ সাল থেকে ২৫ বছর ধরে হাটহাজারী উপজেলার ৩ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদে কর্মরত আছেন। ফটিকছড়ি উপজেলার হে...

যে কারণে সুবর্ণজয়ন্তীর ব্যানারে খালেদা জিয়ার ছবি নেই!

ইসমাম পারভেজ কনক স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যানারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন ব্যানারে কেন খালেদা জিয়ার ছবি নেই। ব্যানারটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেখানেও দলীয় নেতাকর্মীরা আয়োজক কমিটির কঠোর সমালোচনা করছেন। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ও বিএনপির চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম।  তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মানেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। বাংলাদেশ মানেই জিয়া। তাই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে শুধু জিয়াকে ফোকাস করতে চেয়েছি। এ কারণে দলীয় চেয়ারপারসনের ছবি ব্যবহার করা হয়নি।’ বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘একই কারণে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিও ব্যবহার করা হয়নি। তা ছাড়া এ কর্মসূচিটাকে আমরা সর্বজনীন করতে চেয়েছি, দলীয় নয়। এ কারণে জিয়ার ছবি ব্যবহার করেছি।’ আবদুস সালাম আরও বলেন, ‘জিয়া থাকলে বিএনপি থাকবে। জিয়া থাকলেই খালেদা জিয়া থাকবেন, তারেক রহমান থাকবেন। তাই ব্যানারে খালেদা জিয়ার ছবি মু...

যে স্কুলে পড়ার খঁরচ বছরে ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা!

ইসমাম পারভেজ কনক সুইজারল্যান্ডের 'ইনস্টিটিউট লা রোসে' পৃথিবীর সবচেয়ে দামি স্কুল। যেখানকার এক বছরের টিউশন খরচ প্রায় ৮৭ হাজার পাউন্ড। অর্থাৎ ১ কোটি ২ লাখ টাকারও বেশি। পাহাড়ের কোলে বিশাল এলাকা জুড়ে এই স্কুলের দু'টি আলাদা ক্যাম্পাস রয়েছে। একটাতে হেমন্ত থেকে গরমকালের ছুটি পর্যন্ত সবাই থাকে। অন্যটাতে বছরের বাকি মাসগুলো।   স্কুলের ভিতরে রয়েছে সুইমিংপুল। বিশাল লাইব্রেরিতে রাখা ২০টির বেশি ভাষায় লেখা অসংখ্য বই। খেলার মাঠ থেকে শুরু করে উন্নতমানের ক্লাসরুম। এত বড় ক্যাম্পাস যে সেখানে স্কুল ছুটির পর ছাত্রছাত্রীরা শীতকালে স্কি করতেও বের হয়ে পড়ে কখনও কখনও।   এই স্কুলের নিয়মকানুন কিন্তু আর পাঁচটা সাধারণ স্কুলের মতোই। প্রতিদিন ক্লাসে, মিটিংয়ে, স্কুলের অনুষ্ঠানে ইউনিফর্ম পরেই থাকতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। লেদার জ্যাকেট, জিন্সের জ্যাকেট, হাই হিল, শরীর দেখানো পোশাক পরা এখানে একদমই নিষেধ। অর্থাৎ দামি স্কুল হলেও, চিরাচরিত নিয়ম কিন্তু আছেই এখানে।  

নিখোঁজের দু'দিন পর বাড়ির পাশের আবর্জনা থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার!

ইসমাম পারভেজ কনক কুষ্টিয়ার কুমারখালীর জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মধ্য হোগলাপাড়া গ্রামে স্বামীর বসতবাড়ির পার্শ্ববর্তী আবর্জনার স্তুপ থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার  হয়েছে। শনিবার দুপুরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ ।  এলাকাবাসী জানান, ১ বছর আগে কুমারখালীর তেবাড়িয়া গ্রামের রেফাজের মেয়ে রেশমার সাথে হোগলাপাড়া গ্রামের ওহাবের ছেলে সুমনের বিয়ে হয়। নরসুন্দর সুমন মাদকাসক্ত থাকায় বিয়ের পর থেকে চলতে থাকে পারিবারিক কলহ। গত পরশু রাতে পারিবারিক কলহের পর থেকে রেশমা নিখোঁজ ছিল। শনিবার ভোরে বাড়ির পাশে দুর্গন্ধের উত্স খুঁজতে খড়ের আবর্জনা সরালে নিহত রেশমার লাশ দেখতে পাওয়া যায়। থানায় খবর দিলে  পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ  মজিবুর রহমান জানান, নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে তাকে ধরতে জোর চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে হত্যার সঠিক কারণ জানা যাবে।

কিশোরীর সম্ভ্রমের মূল্য ৩ লাখ টাকা : ধর্ষক গ্রেপ্তার!

ইসমাম পারভেজ কনক মহিলা কওমি মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীর সম্ভ্রমের মূল্য ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছেন সমাজপতিরা। সংবাদকর্মীদের কাছে এ খবর পেয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ধর্ষক মুফতি আমির হামজাকে গভীর রাতে গ্রেপ্তার করেছে জাজিরা থানা পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আমির হামজাকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার সকালে ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী এবং তার বাবাকে থানায় ডেকে নেয় পুলিশ। নির্যাতিত শিশুটির জবানবন্দির ভিত্তিতে জাজিরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯/১/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন ধর্ষিতার পিতা। ধর্ষণের শিকার মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। . শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট সংলগ্ন পাইনপাড়ার চরে অবস্থিত বায়তুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসায় ৯ বছর বয়সের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে। মুফতি হামজা স্থানীয় আজিজ শেখের ছেলে। মুফতি হামজা বিবাহিত এবং তার ১১ মাস বয়সের এক কন্যা সন্তান আছে। . বিশ্বস্ত সূত্রের ভিত্তিতে ঘটনার তিন দিন পর শরীয়তপুরের কয়েকজন সংবাদকর্মী শুক্রবার সরেজমিনে জানতে পারেন...

বন্ধ হচ্ছে বহু জিমেইল অ্যাকাউন্ট!

ইসমাম পারভেজ কনক প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল-এর মেইলিং সার্ভিস জিমেইল তাদের সেবা ব্যবহারকারীদের বহু অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির নতুন নিয়মের কারণে আগামী জুন মাস থেকে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আগামী জুন থেকে গুগল ফটোজে বিনামূল্যে ছবি রাখার সুবিধাও তুলে নেয়া হবে। নতুন নীতি অনুযায়ী ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে যে সমস্ত অ্যাকাউন্টগুলো ইনঅ্যাকটিভ রয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি ডিলিট করে দেওয়া হবে। তবে এ নিয়ম কার্যকরের আগেই প্রত্যেক অ্যাকাউন্টধারীকে ই-মেইল মারফত সতর্কবার্তা পাঠানো হবে গুগলের পক্ষ থেকে। গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যবহারকারীরা আর বিনামূল্যে গুগল ফটোজ ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া যে সমস্ত অ্যাকাউন্ট হোল্ডাররা জিমেইল, গুগল ড্রাইভ, ডকুমেন্টস, শিটস, স্লাইডস, ড্রইংস, ফর্মস এবং জ্যামবোর্ড ফাইলস ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহার করেননি, তাদের সেই সমস্ত অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দেওয়া হবে। অবশ্য, ইনঅ্যাক্টিভ অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের বিশ্বাসযোগ্য কন্টাক্টসদের কাছে তাদের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দেওয়ার...

বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর!

ইসমাম পারভেজ কনক   সংক্ষিপ্ত স্কোর: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস:  ৪০৯ বাংলাদেশ ১ম ইনিংস:  ২৯৬ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস:  (আগের দিন ৪১/৩) ৫২.৫ ওভারে ১১৭ (বনার ৩৮, ওয়ারিক্যান ২, মেয়ার্স ৬, ব্ল্যাকউড ৯, জশুয়া ২০, জোসেফ ৯, কর্নওয়াল ১, গ্যাব্রিয়েল ১*; তাইজুল ২১-৪-৩৬-৪, নাঈম ১৫.৫-৫-৩৪-৩, মিরাজ ৬-১-১৫-১, আবু জায়েদ ১০-৪-৩২-২)। বাংলাদেশ ২য় ইনিংস :  (লক্ষ্য ২৩১) ৬১.৩ ওভারে ২১৩ (তামিম ৫০, সৌম্য ১৩, শান্ত ১১, মুমিনুল ২৬, মুশফিক ১৪, মিঠুন ১০, লিটন ২২, মিরাজ ৩১, তাইজুল ৮, নাঈম ১৪, আবু জায়েদ ০*; কর্নওয়াল ৩০-৫-১০৫-৪, জোসেফ ২-০-১৬-০, গ্যাব্রিয়েল ২-০-৮-০, ওয়ারিক্যান ১৬.৩-৪-৪৭-৩, ব্র্যাথওয়েট ১১-১-২৫-৩)। ফল:  ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৭ রানে জয়ী। সিরিজ:  ২ ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ:  রাকিম কর্নওয়াল। ম্যান অব দা সিরিজ:  এনক্রমা বনার।

অনলাইনে ৩টি সাইটে কাজ করে প্রতিমাসে ১০০০ ডলার ইনকামের উপায়।

ইসমাম পারভেজ কনক ০১★ পিটিসি সাইট বা স্টার ক্লিকসে প্রতিমাসে ২৫০ ডলার ইনকাম করতে যোগ দিন।লেখার উপর ক্লিক করে রেজিষ্ট্রেশন করুন। পিটিসি সাইট এখানে প্রতিদিন ১০ টি বা তার বেশী ADD লেখা কিছু সাইট থাকবে।সেখানে শুধু ক্লিক করতে হবে।একটা করে ক্লিক করতে হবে আর ব্যাকে আসতে হবে।প্রতি ক্লিকে একাউন্টে ডলার যোগ হবে।আর রেফারেল করতে পারলে ইনকাম আরও বৃদ্ধি পাবে। সব থেকে সহজ কাজ এইটা।প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ২০ সেকেন্ড সময় লাগবে। রেজিষ্ট্রেশনের নিয়ম দেখুন। সাইন আপ বা রেজিষ্ট্রেশন করতে লেখার উপর ক্লিক করুন। অবশ্যয় ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড মনেে রাখতে হবে। রেজিষ্ট্রেশনের জন্য লেখার উপর ক্লিক করুন। ০২★★ জিপিটি সাইট বা সার্ভেতে প্রতিমাসে ৫০০ ডলার ইনকামের জন্য যোগ দিন ও রেজিষ্ট্রেশন করতে লেখার উপর ক্লিক করুন। জিপিটি সাইটে এড ক্লিক,সার্ভে এবং রেফারেল থেকে ইনকাম।সারাদিন যত গুলো ইচ্ছা সার্ভে করা যাবে।সার্ভে মানে আপনার নিজের সম্পর্কে ১০ টি করে প্রশ্ন করবে।প্রত্যেক প্রশ্নের অপশন দেয়া থাকবে।আপনাকে সিলেক্ট করে উত্তর দিতে হবে।প্রতি ১০ টি প্রশ্নের উত্তরের জন্য আপনাকে পেমেন্ট দেয়া হবে। রেজিষ্ট্রেশনের নিয়ম দেখুনঃ রেজিষ্ট্রেশন ...

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমামের ইন্তেকাল!

ইসমাম পারভেজ কনক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক (এইচ টি) ইমাম ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত ১ টা ১৫মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া রাত ১টা ২০ মিনিটে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত বেদনার সাথে জানাচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জনাব এইচ টি ইমাম রাত ১.১৫ টায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। জানাজা এবং দাফনের বিষয়টি পরে অবহিত করা হবে।’