সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমনানের জীবন কাহিনী ও জীবনাদর্শ

ইসমাম পারভেজ কনক

১৭ মার্চ ১৯২০ সালে শেখ লুৎফুর রহমান ও সায়রা খাতুনের কোল আলোকিত করে জন্ম যে মানবের, যার জন্য পূর্বদিগন্তের উজ্জ্বল আলোক রশ্মি ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখণ্ডে, আজ সে রাষ্ট্রনায়কের শততম জন্মদিন।

তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে যারা ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তাদের জানা উচিত একজন দক্ষ ও সফল রাজনীতিবিদ হতে হলে কতটা কর্তব্যপরায়ণ, পরিশ্রমী, পরিচ্ছন্ন ও সাংগঠনিক ক্ষমতা থাকতে হয়। একজন সাধারণ কর্মী থেকে রাষ্ট্রনায়ক হতে গেলে কতটা আত্মত্যাগী, মেধাবী ও মানুষের ভালোবাসার প্রার্থী হতে হয়। শেখ মুজিবুর রহমানের সব গুণই ছিল; তাই তিনি সফল রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক হয়েছেন।

শামসুর রাহমান তার ‘ধন্য সে পুরুষ’ কবিতায় যর্থাথই বলেছেন-

ধন্য সে পুরুষ, যার নামের উপর রৌদ্র ঝরে

চিরকাল গান হয়ে

নেমে আসে শ্রাবণের বৃষ্টিধারা, যার নামের উপরে

কখনো ধুলো জমতে দেয় না হাওয়া।

ধন্য সে পুরুষ, যার নামের উপরে পাখা মেলে দেয় জ্যোৎস্নার সারস।

ধন্য সে পুরুষ, যার উপরে পতাকার মতো দুলতে থাকে স্বাধীনতা।

শেখ মুজিবের ১৯৪৮ সালের পরবর্তী অধ্যায় আমরা ভালোভাবে জানি; কিন্তু এর আগের সময়ও কম গুরুতপূর্ণ ছিল না তার রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠার পেছনে। কথা হচ্ছে, আমরা বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন বাস্তব জীবনে কতটুকু চর্চা করি। সবার কৌতূহল, আগ্রহ কেমন শেখ মুজিবের শৈশব, বেড়ে ওঠা ও রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে।

শেখ মুজিবুর রহমানের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় তার গ্রামের স্কুলে, যা তারই দাদার প্রতিষ্ঠা করা ছিল। তারপর ৪র্থ থেকে ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত কেটেছে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৬ সালের মধ্যে শেখ মুজিব দু’বার অসুস্থ হন, প্রথমে বেরিবেরি রোগ ও পরে গ্লুকোমায় আক্রান্ত হন। বাবার চাকরির বদলে মাদারীপুর গিয়ে ৭ম শ্রেণীতে আবারও ভর্তি হন। কলকাতায় চোখ অপারেশনের পর থেকেই ৭ম শ্রেণী থেকে পড়াশোনা আবারও শুরু করতে প্রায় বছরখানেক সময় লাগে।

ওই সময়ে মূলত শেখ মুজিব রাজনীতি নিয়ে ভাবনা শুরু করেন, কারণ তখন স্বদেশি আন্দোলন চলছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিদিনকার রুটিন ছিল স্বদেশি আন্দোলনের সভায় যোগদান করা; কারণ উঠতি বয়সী যুবকদেরই তখন আন্দোলনকারীরা দলে ভেড়াত।

শেখ মুজিব তখন সুভাষচন্দ্র বসুর ভক্ত হয়ে পড়েন। স্বদেশি আন্দোলনের সভায় যোগদানের জন্য তিনি মাঝে মধ্যে গোপালগঞ্জ-মাদারীপুর যাতায়াত করতেন। এজন্য স্বদেশি আন্দোলনবিরোধীরা শেখ মুজিবের নামে তার দাদার কাছে অভিযোগও দিয়েছিলেন। শেখ মুজিব ১৯৩৭ সালে আবারও পড়াশোনা শুরু করেন। গোপালগঞ্জে এসে মিশনারি হাইস্কুলে ভর্তি হন এবং তারই হাউস টিউটর আবদুল হামিদের ‘মুসলিম সেবা সমিতি’ গঠন করা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।

যাদের কাজ ছিল প্রত্যেক রোববার মুষ্টির চাল উঠানো এবং তা বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে গরিব ছেলেদের সাহায্য করা। শেখ মুজিবের ছোটবেলা থেকেই সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। ১৯৩৮ সালে শেরেবাংলা ও সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জে আসবেন, তখন শেখ মুজিব কেবল স্কুলের ছাত্র।

তারই ঘাড়ে পড়ল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করার, যারা সভার আয়োজনে সাহায্য করবে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শেখ মুজিব অনুষ্ঠান আয়োজনের সব প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেন এবং সোহরাওয়ার্দী যখন মিশনারি স্কুল পরিদর্শনে যান তখন শেখ মুজিবুরের সঙ্গে পরিচয় ও আলাপচারিতা হয়।

তখন থেকেই তার সঙ্গে চিঠির যোগাযোগ হতো মাঝে মধ্যে। ১৯৩৯ সালে সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে দেখা করে তাকে আশ্বস্ত করে আসেন, গোপালগঞ্জের মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন করবেন এবং মুসলিম লীগও গঠন করবেন। তখন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় পর্দাপণ শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর।

শেখ মুজিব রাজনীতি করলেও খেলাধুলায় বেশ ভালো ছিলেন এবং তার এলাকায় যারা খেলাধুলায় ভালো করত তাদের স্কুলে ভর্তি করানো থেকে শুরু করে বেতন ফ্রি করে দেয়া ইত্যাদি কাজও তিনি করতেন। ১৯৪১ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন শেখ মুজিব এবং পরীক্ষা দিয়েই কলকাতায় যান।

তখন থেকেই সভা-সমাবেশে যোগদান করতেন এবং এরই মাঝে মাদারীপুরে গিয়ে মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন করেন। ম্যাট্রিক পাস করার পর তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় শেখ মুজিবুর রহমান দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জন্য লঙ্গরখানা খোলেন, এমনও দিন গেছে বেশি রাত হওয়ার কারণে কলকাতার বেকার হোস্টেলে ফিরতে পারেননি দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের সেবা করতে গিয়ে হোস্টেলে যাওয়ার সময়টা পেরিয়ে গেছে বলে।

তখন তিনি লীগের অফিসের টেবিলে শুয়ে রাত পার করতেন। তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘যুদ্ধ করে ইংরেজ, আর না খেয়ে মরে বাঙালি, যে বাঙালির কিছুরই অভাব ছিল না। বাংলার মানুষের এতই সম্পদ ছিল যে, একজন মুর্শিদাবাদের ব্যবসায়ী গোটা বিলেত শহর কিনতে পারত।’

১৯৪৩ সালে রিলিফের কাজের জন্য গোপালগঞ্জে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। ফিরে এসে মানুষের ভয়াবহ অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেন একটা বড় কনফারেন্স করার যাতে সোহরাওয়ার্দী ও মুসলিম লীগের অন্য নেতারা এ ভয়াবহ অবস্থা প্রত্যক্ষ করতে পারেন। সেই কনফারেন্স আয়োজনের জন্য নিদারুণ পরিশ্রম করেন শেখ মুজিবুর রহমান।

কলকাতায় গিয়ে নেতাদের দাওয়াত দেয়া, টাকা তোলা, প্যান্ডেল করা এসব কাজের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৪৫ সালের শুরুর দিকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ইস্যু নিয়ে ইলেকশনের প্রস্তুতি শুরু হয়। এ ইলেকশনের কারণে যাতে বাইরে কাজ করতে সুবিধা হয় সেজন্য বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি নেন। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ তাদের প্রচার-প্রচারণা চালাতে থাকেন।

শেখ মুজিব ও তার সঙ্গীদের দায়িত্ব পড়ল মুসলিম লীগের নির্বাচনী অফিস প্রত্যেক জেলায় জেলায় প্রতিষ্ঠা করার। এর কিছুদিন পড়েই কলকাতা, নোয়াখালী ও বিহারে দাঙ্গা শুরু হয়। কলকাতায় দাঙ্গার সময় হোস্টেলের চাল-আটা ফুরিয়ে যায়। শেখ মুজিব তখন সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে যোগাযোগ করে নবাবজাদা নসরুল্লাহর সহায়তায় তার সঙ্গীদের নিয়ে ঠেলাগাড়ি ঠেলে বেকার হোস্টেল, ইলিয়ট হোস্টেলে চাল পৌঁছে দেন।

১৯৪৬ সালে ভারতের রাজনীতিতে এক কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করা হয়। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ফজলুল হক মুসলিম হলে যে সভার আয়োজন হয়েছিল সে সভার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান সবাইকে একত্রিত করেন এবং বোঝান যে, একটা ছাত্র সংগঠন করা একান্তই জরুরি এবং সেই সভায় পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ নামে একটি সংগঠন করা হয়।

তখন ছাত্রলীগ গঠন করা হলে ছাত্রদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায় এবং এক মাসের মধ্যে সব জেলায় কমিটি দাঁড় করানোর পেছনেও কৃতিত্ব ছিল শেখ মুজিবের। ১৯৪৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা কী হতে পারে তা নিয়ে করাচিতে সংবিধান সভার বৈঠক আয়োজন করা হয়।

মুসলিম লীগের অধিকাংশ নেতা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে ছিলেন; ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত দাবি করেছিলেন পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু বাঙালির ভাষা যেহেতু বাংলা তাই বাংলা রাষ্ট্রভাষা হবে এবং তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছিল।

শেখ মুজিবুর রহমান এ ধর্মঘট সফল করার জন্য ফরিদপুর, যশোর, খুলনা ও বরিশালে ছাত্র সম্মেলন করে প্রচারণা চালান। প্রচারণা চালিয়ে ১১ মার্চের ৩ দিন আগে ঢাকায় আসেন এবং ১১ মার্চ সফল ধর্মঘট হয় শেখ মুজিবুর রহমানের কল্যাণেই।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চের ধর্মঘট ছিল পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্মের পর প্রথম সফল হরতাল। তখন খুব কমসংখ্যক ছাত্রনেতা অন্য মানুষকে নিয়ে চিন্তাভাবনা করতেন। শেখ মুজিবুর রহমান যখন আইন বিভাগের ছাত্র তখন নিু বেতনে চাকরিরত কর্মচারীরা ধর্মঘট শুরু করে, শেখ মুজিবুর রহমান সেই ধর্মঘটকে সমর্থন জানান; যার জন্য পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হতে হয়েছিল। ১৯৪৮ সালের পর ৫২, ৬২, ৬৬, ৬৯, ৭০, ’৭১- প্রতিটি অধ্যায়ের নিউক্লিয়াস ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

তরুণ প্রজন্ম যত বেশি বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ, মানবতাবোধ ও রাজনৈতিক দর্শন পাঠ করবে, তাদের বাস্তব জীবনের চলার পথ তত বেশি সুগম হবে। সমস্যা হচ্ছে আমাদের পরশ্রীকাতরতা। বঙ্গবন্ধু তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে একটা জায়গায় আফসোস করে বলেছেন, ‘পরশ্রীকাতরতা ও বিশ্বাসঘাতকতা আমাদের রক্তের মধ্যে রয়েছে।

বোধহয় দুনিয়ার কোনো ভাষায়ই এ কথাটা পাওয়া যাবে না। ঈর্ষা, দ্বেষ সব ভাষায় পাবেন, সব জাতির মধ্যে কিছু কিছু আছে; কিন্তু বাঙালিদের মধ্যে আছে পরশ্রীকাতরতা। ভাই ভাইয়ের উন্নতি দেখে খুশি হয় না, এজন্যই বাঙালি জাতির সবগুণ থাকা সত্ত্বেও জীবনভর অন্যের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে।

সুজলা, সুফলা বাংলাদেশ সম্পদে ভর্তি, এমন উর্বর ভূমি দুনিয়ায় খুবই অল্প আছে, তবু এরা গরিব; কারণ যুগ যুগ ধরেই এরা শোষিত হয়েছে নিজের দোষে। নিজেকে এরা চেনে না, আর যতদিন চিনবে না এবং বুঝবে না ততদিন এদের মুক্তি আসবে না।’






মন্তব্যসমূহ

★★★গত ৭ দিনের সর্বাধিক জনপ্রিয় পোস্টগুলি★★★

কুষ্টিয়া হোন্ডা সার্ভিসিং সেন্টারে খারাপ সার্ভিসিং ও পার্সের দাম বেশী নেয়ার অভিযোগ

ইসমাম পারভেজ কনক কুষ্টিয়াতে হোন্ডা সার্ভিসিং সেন্টারে গাড়ি সার্ভিসিং বন্ধ করুন,এরা দিনে দুপুরে ডাকাতি করে কুষ্টিয়ার হোন্ডা সার্ভিসিং সেন্টার বিশাল বড় বাটপার।এখানে কেউ গাড়ী সার্ভিসিং করাবেন না।হোন্ডা সার্ভিসিং সেন্টারে আপনার গাড়ির কোনো পার্স নষ্ট না হলেও সেইটা নষ্ট বানিয়ে বিক্রি করে।তাছাড়া হোন্ডার সার্ভিসিং সেন্টারে সকল পার্সের দাম অনেক অনেক বেশী।এরা ১০০ টাকার পণ্য বিক্রি করে ৫০০ টাকায়।আর এদের পার্স আর কেউ বিক্রি করে না এই কথা বলে বেশী টাকা হাতিয়ে নেয়।তাছাড়া ১ বছর গেলেয় এরা সার্ভিসিং ফি নিয়ে থাকে।সার্ভিসিং ফি এর সাথে সাথে আরও যেকোনো পার্স বিক্রির চেষ্টা করে।এরা ১০ টাকা পার্স বিক্রি করে ৫০ টাকা।সাথে আবার সার্ভিস চার্জ।সকল পার্সের দাম বেশী এবং বাটপারি করার অভিযোগে আমি সার্ভিস সেন্টারে গিয়েছিলাম।আমার গাড়ির সামনের ব্রেক সু লাগবে বললাম।কিন্তু বললো নায়।আগে গাড়ির ব্রেক সু এর দাম দাম চেয়েছিল ৬০০ টাকা আর সার্ভিসিং ফি ২০০ টাকা।মোট লাগবে ৮০০ টাকা।কিন্তু আমি পরিবর্তন করি নাই।জানি এরা বাটপারি করতেছে।তারপরে আরও যাচাই বাচাই করার জন্য সময় নিলাম।আর যদি সাথে গাড়ির অন্য কোনো ধরনের ছোট কাজও করায়।তাহলে দ...

একই সাথে দুই পদে সরকারি বেতন-ভাতা নিচ্ছেন কানু!

ইসমাম পারভেজ কনক কানু কুমার নাথ - ছবি : সংগৃহীত চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ সচিব কানু কুমার নাথ একই সাথে দুটি পদে গত দুই যুগ ধরে নিয়মিত চাকরি করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি এতদিন ধরে দুই পদের সরকারি বেতন-ভাতাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এসেছেন। জানা গেছে, প্রতি মাসে তিনি সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা বেতন পেয়ে থাকেন। কানু কুমার নাথ একটি কলেজের বাংলা বিষয়ের এমপিওভুক্ত অধ্যাপক এবং একই সাথে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক ব্যক্তির দ্বৈত জন্ম নিবন্ধন সনদ জালিয়াতির তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে হাটহাজারী উপজেলার ৩ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কানু কুমার নাথের একই সাথে দুই পদে চাকরি করার তথ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কানু কুমার নাথ চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার হেঁয়াকো বনানী ডিগ্রি কলেজে বাংলা বিষয়ের অধ্যাপক। ১৯৯৪ সালে নিয়োগ পেয়ে তিনি এ কলেজে এমপিওভুক্ত হন এবং একই পদে কর্মরত আছেন ২৬ বছর ধরে। তথ্য গোপন করে তিনি একই সাথে ১৯৯৫ সাল থেকে ২৫ বছর ধরে হাটহাজারী উপজেলার ৩ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদে কর্মরত আছেন। ফটিকছড়ি উপজেলার হে...

যে কারণে সুবর্ণজয়ন্তীর ব্যানারে খালেদা জিয়ার ছবি নেই!

ইসমাম পারভেজ কনক স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যানারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন ব্যানারে কেন খালেদা জিয়ার ছবি নেই। ব্যানারটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেখানেও দলীয় নেতাকর্মীরা আয়োজক কমিটির কঠোর সমালোচনা করছেন। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ও বিএনপির চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম।  তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মানেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। বাংলাদেশ মানেই জিয়া। তাই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে শুধু জিয়াকে ফোকাস করতে চেয়েছি। এ কারণে দলীয় চেয়ারপারসনের ছবি ব্যবহার করা হয়নি।’ বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘একই কারণে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিও ব্যবহার করা হয়নি। তা ছাড়া এ কর্মসূচিটাকে আমরা সর্বজনীন করতে চেয়েছি, দলীয় নয়। এ কারণে জিয়ার ছবি ব্যবহার করেছি।’ আবদুস সালাম আরও বলেন, ‘জিয়া থাকলে বিএনপি থাকবে। জিয়া থাকলেই খালেদা জিয়া থাকবেন, তারেক রহমান থাকবেন। তাই ব্যানারে খালেদা জিয়ার ছবি মু...

যে স্কুলে পড়ার খঁরচ বছরে ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা!

ইসমাম পারভেজ কনক সুইজারল্যান্ডের 'ইনস্টিটিউট লা রোসে' পৃথিবীর সবচেয়ে দামি স্কুল। যেখানকার এক বছরের টিউশন খরচ প্রায় ৮৭ হাজার পাউন্ড। অর্থাৎ ১ কোটি ২ লাখ টাকারও বেশি। পাহাড়ের কোলে বিশাল এলাকা জুড়ে এই স্কুলের দু'টি আলাদা ক্যাম্পাস রয়েছে। একটাতে হেমন্ত থেকে গরমকালের ছুটি পর্যন্ত সবাই থাকে। অন্যটাতে বছরের বাকি মাসগুলো।   স্কুলের ভিতরে রয়েছে সুইমিংপুল। বিশাল লাইব্রেরিতে রাখা ২০টির বেশি ভাষায় লেখা অসংখ্য বই। খেলার মাঠ থেকে শুরু করে উন্নতমানের ক্লাসরুম। এত বড় ক্যাম্পাস যে সেখানে স্কুল ছুটির পর ছাত্রছাত্রীরা শীতকালে স্কি করতেও বের হয়ে পড়ে কখনও কখনও।   এই স্কুলের নিয়মকানুন কিন্তু আর পাঁচটা সাধারণ স্কুলের মতোই। প্রতিদিন ক্লাসে, মিটিংয়ে, স্কুলের অনুষ্ঠানে ইউনিফর্ম পরেই থাকতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। লেদার জ্যাকেট, জিন্সের জ্যাকেট, হাই হিল, শরীর দেখানো পোশাক পরা এখানে একদমই নিষেধ। অর্থাৎ দামি স্কুল হলেও, চিরাচরিত নিয়ম কিন্তু আছেই এখানে।  

নিখোঁজের দু'দিন পর বাড়ির পাশের আবর্জনা থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার!

ইসমাম পারভেজ কনক কুষ্টিয়ার কুমারখালীর জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মধ্য হোগলাপাড়া গ্রামে স্বামীর বসতবাড়ির পার্শ্ববর্তী আবর্জনার স্তুপ থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার  হয়েছে। শনিবার দুপুরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ ।  এলাকাবাসী জানান, ১ বছর আগে কুমারখালীর তেবাড়িয়া গ্রামের রেফাজের মেয়ে রেশমার সাথে হোগলাপাড়া গ্রামের ওহাবের ছেলে সুমনের বিয়ে হয়। নরসুন্দর সুমন মাদকাসক্ত থাকায় বিয়ের পর থেকে চলতে থাকে পারিবারিক কলহ। গত পরশু রাতে পারিবারিক কলহের পর থেকে রেশমা নিখোঁজ ছিল। শনিবার ভোরে বাড়ির পাশে দুর্গন্ধের উত্স খুঁজতে খড়ের আবর্জনা সরালে নিহত রেশমার লাশ দেখতে পাওয়া যায়। থানায় খবর দিলে  পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ  মজিবুর রহমান জানান, নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে তাকে ধরতে জোর চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে হত্যার সঠিক কারণ জানা যাবে।

কিশোরীর সম্ভ্রমের মূল্য ৩ লাখ টাকা : ধর্ষক গ্রেপ্তার!

ইসমাম পারভেজ কনক মহিলা কওমি মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীর সম্ভ্রমের মূল্য ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছেন সমাজপতিরা। সংবাদকর্মীদের কাছে এ খবর পেয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ধর্ষক মুফতি আমির হামজাকে গভীর রাতে গ্রেপ্তার করেছে জাজিরা থানা পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আমির হামজাকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার সকালে ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী এবং তার বাবাকে থানায় ডেকে নেয় পুলিশ। নির্যাতিত শিশুটির জবানবন্দির ভিত্তিতে জাজিরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯/১/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন ধর্ষিতার পিতা। ধর্ষণের শিকার মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। . শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট সংলগ্ন পাইনপাড়ার চরে অবস্থিত বায়তুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসায় ৯ বছর বয়সের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে। মুফতি হামজা স্থানীয় আজিজ শেখের ছেলে। মুফতি হামজা বিবাহিত এবং তার ১১ মাস বয়সের এক কন্যা সন্তান আছে। . বিশ্বস্ত সূত্রের ভিত্তিতে ঘটনার তিন দিন পর শরীয়তপুরের কয়েকজন সংবাদকর্মী শুক্রবার সরেজমিনে জানতে পারেন...

বন্ধ হচ্ছে বহু জিমেইল অ্যাকাউন্ট!

ইসমাম পারভেজ কনক প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল-এর মেইলিং সার্ভিস জিমেইল তাদের সেবা ব্যবহারকারীদের বহু অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির নতুন নিয়মের কারণে আগামী জুন মাস থেকে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আগামী জুন থেকে গুগল ফটোজে বিনামূল্যে ছবি রাখার সুবিধাও তুলে নেয়া হবে। নতুন নীতি অনুযায়ী ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে যে সমস্ত অ্যাকাউন্টগুলো ইনঅ্যাকটিভ রয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি ডিলিট করে দেওয়া হবে। তবে এ নিয়ম কার্যকরের আগেই প্রত্যেক অ্যাকাউন্টধারীকে ই-মেইল মারফত সতর্কবার্তা পাঠানো হবে গুগলের পক্ষ থেকে। গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যবহারকারীরা আর বিনামূল্যে গুগল ফটোজ ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া যে সমস্ত অ্যাকাউন্ট হোল্ডাররা জিমেইল, গুগল ড্রাইভ, ডকুমেন্টস, শিটস, স্লাইডস, ড্রইংস, ফর্মস এবং জ্যামবোর্ড ফাইলস ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহার করেননি, তাদের সেই সমস্ত অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দেওয়া হবে। অবশ্য, ইনঅ্যাক্টিভ অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের বিশ্বাসযোগ্য কন্টাক্টসদের কাছে তাদের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দেওয়ার...

বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর!

ইসমাম পারভেজ কনক   সংক্ষিপ্ত স্কোর: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস:  ৪০৯ বাংলাদেশ ১ম ইনিংস:  ২৯৬ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস:  (আগের দিন ৪১/৩) ৫২.৫ ওভারে ১১৭ (বনার ৩৮, ওয়ারিক্যান ২, মেয়ার্স ৬, ব্ল্যাকউড ৯, জশুয়া ২০, জোসেফ ৯, কর্নওয়াল ১, গ্যাব্রিয়েল ১*; তাইজুল ২১-৪-৩৬-৪, নাঈম ১৫.৫-৫-৩৪-৩, মিরাজ ৬-১-১৫-১, আবু জায়েদ ১০-৪-৩২-২)। বাংলাদেশ ২য় ইনিংস :  (লক্ষ্য ২৩১) ৬১.৩ ওভারে ২১৩ (তামিম ৫০, সৌম্য ১৩, শান্ত ১১, মুমিনুল ২৬, মুশফিক ১৪, মিঠুন ১০, লিটন ২২, মিরাজ ৩১, তাইজুল ৮, নাঈম ১৪, আবু জায়েদ ০*; কর্নওয়াল ৩০-৫-১০৫-৪, জোসেফ ২-০-১৬-০, গ্যাব্রিয়েল ২-০-৮-০, ওয়ারিক্যান ১৬.৩-৪-৪৭-৩, ব্র্যাথওয়েট ১১-১-২৫-৩)। ফল:  ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৭ রানে জয়ী। সিরিজ:  ২ ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ:  রাকিম কর্নওয়াল। ম্যান অব দা সিরিজ:  এনক্রমা বনার।

অনলাইনে ৩টি সাইটে কাজ করে প্রতিমাসে ১০০০ ডলার ইনকামের উপায়।

ইসমাম পারভেজ কনক ০১★ পিটিসি সাইট বা স্টার ক্লিকসে প্রতিমাসে ২৫০ ডলার ইনকাম করতে যোগ দিন।লেখার উপর ক্লিক করে রেজিষ্ট্রেশন করুন। পিটিসি সাইট এখানে প্রতিদিন ১০ টি বা তার বেশী ADD লেখা কিছু সাইট থাকবে।সেখানে শুধু ক্লিক করতে হবে।একটা করে ক্লিক করতে হবে আর ব্যাকে আসতে হবে।প্রতি ক্লিকে একাউন্টে ডলার যোগ হবে।আর রেফারেল করতে পারলে ইনকাম আরও বৃদ্ধি পাবে। সব থেকে সহজ কাজ এইটা।প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ২০ সেকেন্ড সময় লাগবে। রেজিষ্ট্রেশনের নিয়ম দেখুন। সাইন আপ বা রেজিষ্ট্রেশন করতে লেখার উপর ক্লিক করুন। অবশ্যয় ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড মনেে রাখতে হবে। রেজিষ্ট্রেশনের জন্য লেখার উপর ক্লিক করুন। ০২★★ জিপিটি সাইট বা সার্ভেতে প্রতিমাসে ৫০০ ডলার ইনকামের জন্য যোগ দিন ও রেজিষ্ট্রেশন করতে লেখার উপর ক্লিক করুন। জিপিটি সাইটে এড ক্লিক,সার্ভে এবং রেফারেল থেকে ইনকাম।সারাদিন যত গুলো ইচ্ছা সার্ভে করা যাবে।সার্ভে মানে আপনার নিজের সম্পর্কে ১০ টি করে প্রশ্ন করবে।প্রত্যেক প্রশ্নের অপশন দেয়া থাকবে।আপনাকে সিলেক্ট করে উত্তর দিতে হবে।প্রতি ১০ টি প্রশ্নের উত্তরের জন্য আপনাকে পেমেন্ট দেয়া হবে। রেজিষ্ট্রেশনের নিয়ম দেখুনঃ রেজিষ্ট্রেশন ...

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমামের ইন্তেকাল!

ইসমাম পারভেজ কনক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক (এইচ টি) ইমাম ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত ১ টা ১৫মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া রাত ১টা ২০ মিনিটে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত বেদনার সাথে জানাচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জনাব এইচ টি ইমাম রাত ১.১৫ টায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। জানাজা এবং দাফনের বিষয়টি পরে অবহিত করা হবে।’