সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমনানের জীবন কাহিনী ও জীবনাদর্শ

ইসমাম পারভেজ কনক

১৭ মার্চ ১৯২০ সালে শেখ লুৎফুর রহমান ও সায়রা খাতুনের কোল আলোকিত করে জন্ম যে মানবের, যার জন্য পূর্বদিগন্তের উজ্জ্বল আলোক রশ্মি ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখণ্ডে, আজ সে রাষ্ট্রনায়কের শততম জন্মদিন।

তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে যারা ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তাদের জানা উচিত একজন দক্ষ ও সফল রাজনীতিবিদ হতে হলে কতটা কর্তব্যপরায়ণ, পরিশ্রমী, পরিচ্ছন্ন ও সাংগঠনিক ক্ষমতা থাকতে হয়। একজন সাধারণ কর্মী থেকে রাষ্ট্রনায়ক হতে গেলে কতটা আত্মত্যাগী, মেধাবী ও মানুষের ভালোবাসার প্রার্থী হতে হয়। শেখ মুজিবুর রহমানের সব গুণই ছিল; তাই তিনি সফল রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক হয়েছেন।

শামসুর রাহমান তার ‘ধন্য সে পুরুষ’ কবিতায় যর্থাথই বলেছেন-

ধন্য সে পুরুষ, যার নামের উপর রৌদ্র ঝরে

চিরকাল গান হয়ে

নেমে আসে শ্রাবণের বৃষ্টিধারা, যার নামের উপরে

কখনো ধুলো জমতে দেয় না হাওয়া।

ধন্য সে পুরুষ, যার নামের উপরে পাখা মেলে দেয় জ্যোৎস্নার সারস।

ধন্য সে পুরুষ, যার উপরে পতাকার মতো দুলতে থাকে স্বাধীনতা।

শেখ মুজিবের ১৯৪৮ সালের পরবর্তী অধ্যায় আমরা ভালোভাবে জানি; কিন্তু এর আগের সময়ও কম গুরুতপূর্ণ ছিল না তার রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠার পেছনে। কথা হচ্ছে, আমরা বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন বাস্তব জীবনে কতটুকু চর্চা করি। সবার কৌতূহল, আগ্রহ কেমন শেখ মুজিবের শৈশব, বেড়ে ওঠা ও রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে।

শেখ মুজিবুর রহমানের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় তার গ্রামের স্কুলে, যা তারই দাদার প্রতিষ্ঠা করা ছিল। তারপর ৪র্থ থেকে ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত কেটেছে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৬ সালের মধ্যে শেখ মুজিব দু’বার অসুস্থ হন, প্রথমে বেরিবেরি রোগ ও পরে গ্লুকোমায় আক্রান্ত হন। বাবার চাকরির বদলে মাদারীপুর গিয়ে ৭ম শ্রেণীতে আবারও ভর্তি হন। কলকাতায় চোখ অপারেশনের পর থেকেই ৭ম শ্রেণী থেকে পড়াশোনা আবারও শুরু করতে প্রায় বছরখানেক সময় লাগে।

ওই সময়ে মূলত শেখ মুজিব রাজনীতি নিয়ে ভাবনা শুরু করেন, কারণ তখন স্বদেশি আন্দোলন চলছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিদিনকার রুটিন ছিল স্বদেশি আন্দোলনের সভায় যোগদান করা; কারণ উঠতি বয়সী যুবকদেরই তখন আন্দোলনকারীরা দলে ভেড়াত।

শেখ মুজিব তখন সুভাষচন্দ্র বসুর ভক্ত হয়ে পড়েন। স্বদেশি আন্দোলনের সভায় যোগদানের জন্য তিনি মাঝে মধ্যে গোপালগঞ্জ-মাদারীপুর যাতায়াত করতেন। এজন্য স্বদেশি আন্দোলনবিরোধীরা শেখ মুজিবের নামে তার দাদার কাছে অভিযোগও দিয়েছিলেন। শেখ মুজিব ১৯৩৭ সালে আবারও পড়াশোনা শুরু করেন। গোপালগঞ্জে এসে মিশনারি হাইস্কুলে ভর্তি হন এবং তারই হাউস টিউটর আবদুল হামিদের ‘মুসলিম সেবা সমিতি’ গঠন করা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।

যাদের কাজ ছিল প্রত্যেক রোববার মুষ্টির চাল উঠানো এবং তা বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে গরিব ছেলেদের সাহায্য করা। শেখ মুজিবের ছোটবেলা থেকেই সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। ১৯৩৮ সালে শেরেবাংলা ও সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জে আসবেন, তখন শেখ মুজিব কেবল স্কুলের ছাত্র।

তারই ঘাড়ে পড়ল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করার, যারা সভার আয়োজনে সাহায্য করবে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শেখ মুজিব অনুষ্ঠান আয়োজনের সব প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেন এবং সোহরাওয়ার্দী যখন মিশনারি স্কুল পরিদর্শনে যান তখন শেখ মুজিবুরের সঙ্গে পরিচয় ও আলাপচারিতা হয়।

তখন থেকেই তার সঙ্গে চিঠির যোগাযোগ হতো মাঝে মধ্যে। ১৯৩৯ সালে সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে দেখা করে তাকে আশ্বস্ত করে আসেন, গোপালগঞ্জের মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন করবেন এবং মুসলিম লীগও গঠন করবেন। তখন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় পর্দাপণ শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর।

শেখ মুজিব রাজনীতি করলেও খেলাধুলায় বেশ ভালো ছিলেন এবং তার এলাকায় যারা খেলাধুলায় ভালো করত তাদের স্কুলে ভর্তি করানো থেকে শুরু করে বেতন ফ্রি করে দেয়া ইত্যাদি কাজও তিনি করতেন। ১৯৪১ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন শেখ মুজিব এবং পরীক্ষা দিয়েই কলকাতায় যান।

তখন থেকেই সভা-সমাবেশে যোগদান করতেন এবং এরই মাঝে মাদারীপুরে গিয়ে মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন করেন। ম্যাট্রিক পাস করার পর তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় শেখ মুজিবুর রহমান দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জন্য লঙ্গরখানা খোলেন, এমনও দিন গেছে বেশি রাত হওয়ার কারণে কলকাতার বেকার হোস্টেলে ফিরতে পারেননি দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের সেবা করতে গিয়ে হোস্টেলে যাওয়ার সময়টা পেরিয়ে গেছে বলে।

তখন তিনি লীগের অফিসের টেবিলে শুয়ে রাত পার করতেন। তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘যুদ্ধ করে ইংরেজ, আর না খেয়ে মরে বাঙালি, যে বাঙালির কিছুরই অভাব ছিল না। বাংলার মানুষের এতই সম্পদ ছিল যে, একজন মুর্শিদাবাদের ব্যবসায়ী গোটা বিলেত শহর কিনতে পারত।’

১৯৪৩ সালে রিলিফের কাজের জন্য গোপালগঞ্জে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। ফিরে এসে মানুষের ভয়াবহ অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেন একটা বড় কনফারেন্স করার যাতে সোহরাওয়ার্দী ও মুসলিম লীগের অন্য নেতারা এ ভয়াবহ অবস্থা প্রত্যক্ষ করতে পারেন। সেই কনফারেন্স আয়োজনের জন্য নিদারুণ পরিশ্রম করেন শেখ মুজিবুর রহমান।

কলকাতায় গিয়ে নেতাদের দাওয়াত দেয়া, টাকা তোলা, প্যান্ডেল করা এসব কাজের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৪৫ সালের শুরুর দিকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ইস্যু নিয়ে ইলেকশনের প্রস্তুতি শুরু হয়। এ ইলেকশনের কারণে যাতে বাইরে কাজ করতে সুবিধা হয় সেজন্য বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি নেন। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ তাদের প্রচার-প্রচারণা চালাতে থাকেন।

শেখ মুজিব ও তার সঙ্গীদের দায়িত্ব পড়ল মুসলিম লীগের নির্বাচনী অফিস প্রত্যেক জেলায় জেলায় প্রতিষ্ঠা করার। এর কিছুদিন পড়েই কলকাতা, নোয়াখালী ও বিহারে দাঙ্গা শুরু হয়। কলকাতায় দাঙ্গার সময় হোস্টেলের চাল-আটা ফুরিয়ে যায়। শেখ মুজিব তখন সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে যোগাযোগ করে নবাবজাদা নসরুল্লাহর সহায়তায় তার সঙ্গীদের নিয়ে ঠেলাগাড়ি ঠেলে বেকার হোস্টেল, ইলিয়ট হোস্টেলে চাল পৌঁছে দেন।

১৯৪৬ সালে ভারতের রাজনীতিতে এক কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করা হয়। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ফজলুল হক মুসলিম হলে যে সভার আয়োজন হয়েছিল সে সভার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান সবাইকে একত্রিত করেন এবং বোঝান যে, একটা ছাত্র সংগঠন করা একান্তই জরুরি এবং সেই সভায় পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ নামে একটি সংগঠন করা হয়।

তখন ছাত্রলীগ গঠন করা হলে ছাত্রদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায় এবং এক মাসের মধ্যে সব জেলায় কমিটি দাঁড় করানোর পেছনেও কৃতিত্ব ছিল শেখ মুজিবের। ১৯৪৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা কী হতে পারে তা নিয়ে করাচিতে সংবিধান সভার বৈঠক আয়োজন করা হয়।

মুসলিম লীগের অধিকাংশ নেতা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে ছিলেন; ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত দাবি করেছিলেন পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু বাঙালির ভাষা যেহেতু বাংলা তাই বাংলা রাষ্ট্রভাষা হবে এবং তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছিল।

শেখ মুজিবুর রহমান এ ধর্মঘট সফল করার জন্য ফরিদপুর, যশোর, খুলনা ও বরিশালে ছাত্র সম্মেলন করে প্রচারণা চালান। প্রচারণা চালিয়ে ১১ মার্চের ৩ দিন আগে ঢাকায় আসেন এবং ১১ মার্চ সফল ধর্মঘট হয় শেখ মুজিবুর রহমানের কল্যাণেই।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চের ধর্মঘট ছিল পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্মের পর প্রথম সফল হরতাল। তখন খুব কমসংখ্যক ছাত্রনেতা অন্য মানুষকে নিয়ে চিন্তাভাবনা করতেন। শেখ মুজিবুর রহমান যখন আইন বিভাগের ছাত্র তখন নিু বেতনে চাকরিরত কর্মচারীরা ধর্মঘট শুরু করে, শেখ মুজিবুর রহমান সেই ধর্মঘটকে সমর্থন জানান; যার জন্য পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হতে হয়েছিল। ১৯৪৮ সালের পর ৫২, ৬২, ৬৬, ৬৯, ৭০, ’৭১- প্রতিটি অধ্যায়ের নিউক্লিয়াস ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

তরুণ প্রজন্ম যত বেশি বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ, মানবতাবোধ ও রাজনৈতিক দর্শন পাঠ করবে, তাদের বাস্তব জীবনের চলার পথ তত বেশি সুগম হবে। সমস্যা হচ্ছে আমাদের পরশ্রীকাতরতা। বঙ্গবন্ধু তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে একটা জায়গায় আফসোস করে বলেছেন, ‘পরশ্রীকাতরতা ও বিশ্বাসঘাতকতা আমাদের রক্তের মধ্যে রয়েছে।

বোধহয় দুনিয়ার কোনো ভাষায়ই এ কথাটা পাওয়া যাবে না। ঈর্ষা, দ্বেষ সব ভাষায় পাবেন, সব জাতির মধ্যে কিছু কিছু আছে; কিন্তু বাঙালিদের মধ্যে আছে পরশ্রীকাতরতা। ভাই ভাইয়ের উন্নতি দেখে খুশি হয় না, এজন্যই বাঙালি জাতির সবগুণ থাকা সত্ত্বেও জীবনভর অন্যের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে।

সুজলা, সুফলা বাংলাদেশ সম্পদে ভর্তি, এমন উর্বর ভূমি দুনিয়ায় খুবই অল্প আছে, তবু এরা গরিব; কারণ যুগ যুগ ধরেই এরা শোষিত হয়েছে নিজের দোষে। নিজেকে এরা চেনে না, আর যতদিন চিনবে না এবং বুঝবে না ততদিন এদের মুক্তি আসবে না।’






মন্তব্যসমূহ

★★★গত ৭ দিনের সর্বাধিক জনপ্রিয় পোস্টগুলি★★★

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ব্যবিদ্যালয়ে নতুন মুখ

ইসমাম পারভেজ কনক   রেজিস্ট্রারসহ ইবির প্রশাসনিক তিন পদে নতুন মুখ অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন,আতাউর রহমান-সহীদ,উদ্দীন মোঃ তারেক। প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ তিন পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে রেজিস্ট্রার পদে আতাউর রহমান ও প্রধান প্রকৌশলী পদে মুন্সী সহীদ উদ্দীন মোঃ তারেক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এবং পরিবহন প্রশাসক পদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) উপাচার্য অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার আইয়ুব আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। পরে নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশ থেকে পরিবহন প্রশাসক ও প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের বিষয়টি জানা যায়। অফিস আদেশে বলা হয়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম তাঁদেরকে নিয়োগ দিয়েছেন। আতাউর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব থেকে পুনঃবিন্যাস ঘটিয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং উপ-প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী সহিদ উদ্দীন মোঃ তারেককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।  পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্...

কুষ্টিয়ায় ট্রিপল মার্ডারের ময়নাতদন্ত শেষে যা জানা গেল!

ইসমাম পারভেজ কনক  কুষ্টিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তা এ এস আই সৌমেনের গুলিতে স্ত্রী,পুত্রসহ ৩ জন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। রোববার রাতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় করা এই মামলার বাদি হন নিহত শাকিলের বাবা। একমাত্র আসামি পুলিশের এএসআই সৌমেন রায়। এদিকে হত্যাকারী পুলিশের বিরুদ্ধে দুটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ সোমবার দিনের কোনো একসময় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আদালতে আনা হবে বলে জানা গেছে। রোববার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া শহরের কাষ্টমস মোড়ে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যেই ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার পর তা নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন । লাশ তিনটির ময়নাতদন্ত করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার।   তাপস কুমার সরকার সাংবাদিকদের জানান, তিনজনকে দুটি করে ছয়টি গুলি করা হয়েছে। প্রত্যেকের মাথায় কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। প্রথমে শাকিল খানের ময়নাতদন্ত করা হয়। তার মাথার বাম পাশে গুলি করা হয়েছে। এ ছাড়া তার ডান পায়ের ঊরুতে গুলির চিহ্ন রয়েছে। এরপর আসমা খাতুনের ময়নাতদন্ত করা হয়। আসমার মাথা ও গলায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। সবশেষে শিশু রবিনের (৬) ...

অল্প সুদে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

ইসমাম পারভেজ কনক   ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ আসছে বলে জানিয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। এক্ষেত্রে অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) করোনাকালে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ভূমিকা শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব এসব কথা বলেন। প্রণোদনা প্যাকেজটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য বৃহস্পতিবারই (১৪ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান সিনিয়র সচিব। আসাদুল ইসলাম বলেন, একটি প্রণোদনা প্যাকেজ অর্থমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ দিতে যাচ্ছি। এটা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবো। অক্টোবর মাসে এটা নিয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করতে বলা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ২০ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল সেটার ডিসবার্সমেন্টটা ভালো ছিল না। অনেক চাপ প্রয়োগ করেছি, ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটা অনীহাও ছিল। আর একটা পরিস্থিতি তারা ফেস করেছে, সেটা হলো তাদের কাছে (ক্ষুদ্র উদ্য...

অনলাইনে বাস্তব ইনকাম পর্ব-০৬

ইসমাম পারভেজ কনক আপনি যদি নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন তাহলে নিশ্চয়  ফ্রিল্যান্সিং  বা  আউটসোর্সিং  এর মাধ্যমে  অনলাইনে আয়  করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু  অনলাইনে আয়  সে তো মরীচিকা, হয়তো অনেকবার চেষ্টা করেছেন কিন্তু সফল হননি। এই সেদিন আপনার পাশের বাড়ির কুদ্দুছ বা পরিচিত রহিমও টাকা পয়সার জন্য হা-হুতাশ করতো। কিন্তু  অনলাইনে ইনকাম  করে তাদের জীবন ধারাও পাল্টাতে শুরু করেছে। সারাক্ষণের সঙ্গী হাতের স্মার্টফোন বা মুভি দেখার কম্পিউটার টাই যদি হয়ে যায় আপনার উপার্জনের মাধ্যম, তাহলে নিশ্চয় মন্দ হয় না। আর আপনি যদি পরের অধীনে কাজ না করে স্বাধীন ভাবে আয় উপার্জন করতে চান তাহলে আপনার  ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার  শুরু করার জন্য এই লেখাটি হতে পারে সঠিক দিক নির্দেশনা।   কন্টেন্ট রাইটিং বা লেখালেখি ইন্টারনেটে অর্থ উপার্জন করার অন্য আরেকটি জনপ্রিয় উপায় হল বিভিন্ন ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য কন্টেন্ট লেখা। আপনি বিভিন্ন ব্লগ, কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, পন্য নিয়ে লিখতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের লেখার জন্য কন্টেন্ট রাইটাররা বিভিন্ন পরিমানে পারিশ্রমি...

‘রিলেশন থাকলেই ধর্ষণ-হত্যার অধিকার তো রাখে না’:আনুশকার মা

ইসমাম পারভেজ কনক কলাবাগানে ধর্ষণ-হত্যার শিকার ছাত্রীর মা বলেছেন, ‘বলা হচ্ছে, দিহানের সঙ্গে মেয়ের রিলেশন ছিল, মানলাম। কিন্তু রিলেশন থাকলেই ধর্ষণ বা মেরে ফেলার অধিকার তো রাখে না।’  গতকাল বুধবার নিজ বাসায় প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ৭ জানুয়ারি রাজধানীর কলাবাগানে ধর্ষণের শিকার হয় ‘ও’ লেভেলে পড়ুয়া ছাত্রী। সেখান থেকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মেয়েটি মারা যায় বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।  এই মা বলেন, তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় একজন নয়, একাধিক মানুষ জড়িত ছিল। তিনি জড়িত সবার যথোপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।  মেয়েকে হারিয়ে এই মা বলেন, মেয়ে ২০ মিনিটের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু সে আর ফিরে এল না।  মারা যাওয়া মেয়েটির রুমে বসেই কথা বলেন মা। মেয়ের রুম সাদা ও বাদামি রঙে ছিমছাম করে সাজানো। পড়ার টেবিলে পড়ে আছে পারিবারিক একটি অ্যালবাম। মেয়ের বইসহ অন্যান্য জিনিস সাজিয়ে রাখা আছে। মা জানালেন, মেয়ে হালকা রং পছন্দ করত। মেয়ের পছন্দেই ঘরের পর্দা কেনা হয়েছিল।    এই মা বলেন, ‘মেয়ে স্বেচ্ছায় সেখানে গেছে, তা বিশ্বাস করি না। অচেতন করে বা যেভাবেই হোক, মেয়েকে নেওয়া ...

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পাহাড়পুরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৩

ইসমাম পারভেজ কনক কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার ফিরােজ আহমেদ কটার নেতৃত্বে দু'পক্ষের সংঘর্ষ হয়, আহত ৩ আজব শেখ (৫৫), রজব শেখ (৪৫), আমিরুল সেখ (৪৭),গতকাল ৬/জুলাই আনুমানিক রাত ৯/ টার দিকে তারা তিনজন বাঁধ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পাহাড়পুর গ্রামের মমিনের বাড়ির সামনে থেকে কটা মেম্বার এর নেতৃত্বে একদল দুবৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপরে হামলা করে ফলে তিনজনই গুরুতরভাবে আহত হয় তারা এখন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

জিপিটি সাইটে কীভাবে রেজিষ্ট্রেশন করবেন?

ইসমাম পারভেজ কনক   জিপিটি সাইটের রেজিষ্ট্রেশন পিটিসি সাইটের মতই।তাই যারা পিটিসি সাইট খুলেছেন।তারা একইভাবে জিটিসি সাইট খুলুন।এখানে ক্লিক্সসেন্সের মাধ্যমে দেখানো হল।তবে সকল পিটিসি এবং জিটিসি সাইটের রেজিষ্ট্রেশন এবং লগিন সিস্টেম একই রকম। রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া এবার আসল কাজ শুরু। clixsense পলিসি অনুযায়ী সাইটে সাইনআপ করতে হলে আপনাকে কোন রেফারেল আইডি হয়ে রেজিঃ করতে হবে। কেননা, আপনি যখন Referral এবং Advertisement শুরু করবেন সেখানে ইনকাম বৃদ্ধিতে বেশ সহায়ক হবে। রেফারেল না হয়ে  সরাসরি সাইনআপ করতে পারবেন। তবে তা clixsense সার্ভারে  Non Improve ID হিসাবে রেকর্ড থাকবেন। আমি যখন Signup করেছিলাম তখন অন্য একটি Referral আইডির মাধ্যমে Pass করেছিলাম। যাইহোক এবার বিষয়টি আপনার ইচ্ছা কোন পদ্ধতিতে রেজিঃ করবেন! রেজিঃ করতে প্রথমে তাদের সাইটে যান  এখানে ক্লিক করুন। সেখান হইতে সাইনআপে ক্লিক করুন> নিম্নরুপ চিত্র আসবে > যাবতীয় তথ্যাদি পূরন করুন।তবে ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড অবশ্যয় মনে রাখবেন অথবা কোথাও লিখে রাখুন। First name অংশে নিজের আসল নামের  First name পূরন করে Last name দেন। ...

কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়া বাজারে সলিং ও ড্রেন নির্মাণ কাজে অনিয়ম

ইসমাম পারভেজ কনক  কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার উজান গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের বিত্তিপাড়া বাজারে  সলিং ও নিম্ন মানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা এ বিষয়ে অভিযোগ তুলেছে। স্থানীয় ইউপি দুই মেম্বর  ফরিদা ও স্কেন্দার বাজারটিতে এডিবির অর্থায়নে সলিং বাবদ-১০৭,৭০০/ =ড্রেন বাবদ ১৫৯,০০০/=  টাকার নির্মান কাজ পরিচালনা করছে।  কিন্তু নিম্নমানের ইট কাদা মিশ্রিত বালি দিয়ে নিম্নমানের কাজ করায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নিম্ন মানের ইট কাদা মিশ্রিত বালি যেটা নির্মান কাজের জন্য মোটেও উপযুক্ত নয় আর ইটের মাঝখানে কোন মশলা ছারাই কাজ করে ফেলছে এতে করে মজবুত না হওয়ায় সাথে সাথে ভেঙ্গে পরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। । তারা ভাল মানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে কাজ করার দাবি জানান। নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারনে স্থানীয়রা ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার পর সাংবাদিক সরজমিনে গেলে এই চিত্র ফুটে উঠে।

ঠিকাদারি ব্যবসা ছেড়ে মাছ ও ফল চাষে বাজিমাৎ!

ইসমাম পারভেজ কনক   কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের আহম্মেদপুর এলাকার হযরত আলী (৬০) পেশায় ছিলেন একজন ঠিকাদার। বয়স বাড়ায় ছাড়তে হয়েছে এ পেশা। এরপর নিজেকে বেকার মনে হওয়ায় গড়ে তোলেন পুকুর, গরুর খামার আর মিশ্র ফলবাগান। আর তাতেই বাজিমাৎ। এখন তিনি এলাকায় উদ্যোক্তাদের রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, খামারে মোট ২৪টি ছোট বড় পুকুরে বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ হচ্ছে। তার পাশেই আছে কাটিমন আম, পেয়ারা, লেবু, কমলা, মাল্টা, পেঁপেসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের ফলবাগান। বাগানের পাশেই একটি শেডে ৬টি গাভী পালন করা হয়। এই মিশ্র ফল বাগান ও খামার থেকে হযরত আলীর বার্ষরিক আয় ৫-৭ লাখ টাকা। আরও জানা গেছে, হযরত আলীর মাছ চাষ ও ফলবাগান দেখে গ্রাম ও আশপাশের এলাকার অনেকে উদ্বুদ্ধ। অনেকে একই উদ্যোগ নিয়ে এখন স্বাবলম্বীও হয়েছেন। প্রতিদিন তার বাগান দেখতে ভিড় করেন বহু মানুষ। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের আহম্মেদপুর এলাকার হযরত আলী (৬০) পেশায় ছিলেন একজন ঠিকাদার হযরত আলী জানান, তার বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও সাতক্ষীরায় ব্যবসা ছিল। পেপার্স প্রিন্টিং প্রেস ও ঠিকাদারী ব্যবসা করতেন সেখানে। কিন্তু এখ...

কুষ্টিয়ার জোতপাড়া গ্রামে বিষপানে শামীম নামের এক যুবকের মৃত্যু

ইসমাম পারভেজ কনক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উত্তর জোতপাড়া গ্রামের রজব আলী কটার  ছেলে হাসমত আলী  ওরফে শামীম  (১৯.০৬.২০২১) আনুমানিক  বিকেল ৫.৩০ মিনিটে  কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে  ইন্তেকাল করেন। জানা যায়,পারিবারিক কলোহের জেড়ে শামীম এক পর্যায়ে বিষপান করেন।বিষপানের পর তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সত্যই কি পারবারিক কলোহের জেড়ে বিষপান করে শামীম মারা গেল,নাকি অন্য কোনো কারণ আছে।সেইটা এখনও রহস্যই রয়ে গেছে।