সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

লকডাউনে গরিব মানুষ খাবে কী?

ইসমাম পারভেজ কনক



দরিদ্র মানুষের জন্যে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত না করেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী ‘কঠোর লকডাউন’ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, খাদ্য সহায়তা ছাড়া অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কোটি কোটি দরিদ্র মানুষকে ঘরে আটকে রাখা সম্ভব হবে না।

তাই খাদ্য সহায়তা ছাড়া ঘোষিত এই লকডাউন আদৌ কার্যকর করা যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারের এ সিদ্ধান্ত ‘যথাযথ’ হয়নি বলে মনে করছেন তারা।

একইসঙ্গে কোভিডের অভিঘাতে আর্থিকভাবে জর্জরিত এসব দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক-পেশাজীবী সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত সর্বাত্মক লকডাউনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে বলা হয়, এর বাস্তবায়নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীও মাঠে থাকবে।

এদিন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকেও বলা হয়, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হলেই তার বিরুদ্ধে মামলা, এমনকি গ্রেপ্তারও করা হতে পারে।

ফলে কার্যত এই লকডাউনে দরিদ্র কর্মজীবী মানুষের জীবিকা নির্বাহের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

অথচ বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) সাম্প্রতিক এক জরিপের ফলাফল বলছে, কোভিডের আঘাতে দেশে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে দুই কোটি ৪৫ লাখ মানুষ।


গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার প্রভাবে দেশে সার্বিক দারিদ্র্যের হার (আপার পোভার্টি রেট) বেড়ে ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দেশব্যাপী খানা জরিপের ভিত্তিতে এই তথ্য জানায় সংস্থাটি।

তবে, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নতুন দরিদ্রের বিষয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের করা জরিপের ফলাফল স্বীকার করেননি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৭ জুন লকডাউনে দরিদ্র, দুস্থ, অসচ্ছল ও কর্মহীন জনগোষ্ঠীকে মানবিক সহায়তা দিতে ৬৪ জেলার অনুকূলে মাত্র ২৩ কোটি ছয় লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছাড় করা হয়। বলা হয়, ৩৩৩ নম্বরে ফোন করলে মানবিক সহায়তা পাওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তিদের এই বরাদ্দ থেকে খাদ্য-সহায়তা দেওয়া হবে।

বুধবার রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে এক সমাবেশে ‘কঠোর লকডাউন’ সফল করতে খেতমজুরসহ গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের খাদ্য সহায়তা ও চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানায় ‘ক্ষেতমজুর সমিতি’ নামের একটি সংগঠন।

এ বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, ‘অতীতে যত লকডাউন হয়েছে তাতে দেখা গেছে “দিন আনা দিন খাওয়া” মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট করে। তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় ক্ষুধার তাড়নায় এসব মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।’

‘ফলে করোনা মহামারি মোকাবিলায় সকল গরিব মানুষদের খাদ্য নিরাপত্তা, রেশনিং ব্যবস্থা চালু, গ্রামের মানুষের করোনা টেস্ট ও ভ্যাকসিন দিতে হবে।’

২০১৬ থেকে ১৭ সালের মধ্যে পরিচালিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ অনুসারে, বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা ছয় কোটির বেশি। এর মধ্যে ৮৫ দশমিক এক শতাংশই কাজ করেন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। আর অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান প্রায় ৫০ শতাংশ।

এ অবস্থায় দেশের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের এসব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর এই লকডাউনের প্রভাব ও এর কার্যকারিতা প্রসঙ্গে দ্য ডেইলি স্টার কথা বলেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক বিনায়ক সেনের সঙ্গে।

শুরুতেই অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যূনতম খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত না করেই কঠোর লকডাউন আরোপের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেন, ‘প্রথমত এটা কোনো যৌক্তিক সিদ্ধান্ত না এবং এটা ফলপ্রসূও হবে না। কারণ, লকডাউন কার্যকর করতে গেলে তার পূর্বশর্তগুলো পূরণ করতে হয়।’

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জাবির এই অধ্যাপক বলেন, ‘যেকোনো দেশেই যদি প্রকৃত অর্থে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে এর দ্বারা যারা অ্যাফেক্টেড হবে, তাদের বিষয়গুলো বিবেচনার মধ্যে নিতে হয়। বাংলাদেশে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ কাজ করে। যারা সরাসরি আক্রান্ত। এর বাইরে আমরা যদি দোকান কর্মচারী কিংবা পরিবহন খাতের লোকজনদের ধরি, তারাও একটা বড় অংশ। অথচ লকডাউন আরোপের ক্ষেত্রে এদের বিষয়টি ধর্তব্যের মধ্যেই আনা হয়নি।’

আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘আমি এমন কোনো দেশ দেখিনি, যেখানে প্রণোদনা প্যাকেজ বা অন্যান্য সুবিধা এদের (দরিদ্র জনগোষ্ঠী) টার্গেট করে দেওয়া হয়নি। অথচ বাংলাদেশে এদের সম্পূর্ণ এক্সক্লুড (বাদ রেখে) করে মাঝে মধ্যে টোকেন গিফটের মতো কিছু কর্মসূচি নেওয়ার কথা আমরা শুনেছি। সেগুলোও ঠিকমতো বাস্তবায়িত হয়নি।’

এই অধ্যাপকের অভিমত, ‘বিভিন্ন দেশ লকডাউনে এই শ্রেণির জনগোষ্ঠীকে টিকে থাকার জন্যে কয়েক মাস ধরে সাপোর্ট দিয়ে গেছে। আমাদের দেশেও এটা হলে নিশ্চিত করা যেত যে, তারা ঘর থেকে বের হবে না। এখন কিছু না দিয়েই যদি তাদের ঘরে থাকতে বলা হয়, তখন তা একটা ডেসপারেট সিচুয়েশন তৈরি করে। তখন তারা নানা ধরনের রাস্তা খোঁজে।’

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বাংলাদেশে তাদেরকে (দরিদ্র জনগোষ্ঠী) বাদ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ ঘোষণা করা হলো, ঋণের ব্যবস্থা করা হলো। সেগুলো বড় ব্যবসায়ীদের জন্য হেল্পফুল হয়েছে। কিন্তু, বিশালসংখ্যক এই জনগোষ্ঠীর জন্যে কিছুই হয়নি। তার ফলে এটা কার্যকরও হচ্ছে না।’

সব মিলিয়ে এই অর্থনীতিবিদের পর্যবেক্ষণ হলো, ‘এই ধরনের ইল্লজিক্যাল (অযৌক্তিক), ইনকনসিসটেন্স (অসংগত) ও কন্ট্রাডিক্টরি (পরস্পরবিরোধী) সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণেই লকডাউন কার্যকর হয় না। মানুষ করোনায় যতে অ্যাফেক্টেড হচ্ছে, করোনাকালে ব্যবস্থাপনার অভাব কিংবা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার চেয়ে বেশি।’

এ বিষয়ে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের বক্তব্য, ‘লকডাউন মানে মানুষকে ঘরে থাকতে বলা। ঘরে থাকা মানে সে আয়-উপার্জন করতে পারবে না। বিশেষ করে যারা দিন আনে দিন খায়। এখন তাদের যদি খাবারের নিশ্চয়তা না দেওয়া হয়, তাহলে কোনো শক্তি কিংবা হুকুম দ্বারা তাদের ঘরে আটকে রাখা সম্ভব না।’

এই বাম নেতা বলেন, ‘আমাদের দেশে যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের সংখ্যা হিসাব করা খুব কঠিন না। যাদের সবার জন্যে এক মাসের খাবার সরবরাহ করতে হলে হয়তো বাজেটের এক শতাংশও লাগত না। এটা সরকার কেন করল না, সেটা বুঝতে পারছি না।’

সেলিম আরও বলেন, ‘এর আগেও সরকারকে বলেছিলাম, মানুষকে বলো যে তোমাদের বের হওয়ার দরকার নেই। তোমাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। একটা দুর্নীতিমুক্ত ও শক্তিশালী পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের মাধ্যমে এটা করা সম্ভব ছিল। এমনকি এ বিষয়ে আমি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকেও অনুরোধ করেছিলাম।’

এ ছাড়া লকডাউনে দরিদ্র, দুস্থ ও কর্মহীন মানুষের জন্যে ২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রসঙ্গে সেলিমের বক্তব্য, ‘সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, করোনাকালে দুই কোটির বেশি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। এর সঙ্গে যদি আগের সংখ্যা যুক্ত করা হয়, তাহলে কমপক্ষে পাঁচ-ছয় কোটি হবে। সেটা হলে একেক জনের ভাগে চার-পাঁচ টাকার বেশি তো পড়ার কথা না। এটা লোক দেখানো, তামাশার মতো একটা বিষয়।’

অবশ্য লকডাউন ও এর ভেতর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্বাহ প্রসঙ্গে কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক বিনায়ক সেন। তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে সিচুয়েশনের কারণে সব সময় সবকিছু উইন উইন হয় না। পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, সাময়িক দুর্ভোগ হলেও এক সপ্তাহ না, অন্তত এক মাসের কঠোর লকডাউন দেওয়া উচিত। যাতে আমরা এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি।’

দীর্ঘকাল যাবৎ দারিদ্র, আয়-বৈষম্য ও মানব উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে আসা এই গবেষক বলেন, ‘অবস্থা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গেলে নৈরাজ্য নেমে আসবে। সুশাসনের ঘাটতি হবে। (দরিদ্র জনগোষ্ঠীর) যে সাময়িক কষ্টের কথা বলা হচ্ছে, সন্দেহ নেই সেটা হবেই। সেটা মোকাবিলার জন্য যেসব ব্যবস্থাপত্রের কথা আগে বলা হয়েছিল, সেগুলোই আবার চালু করতে হবে। বিভিন্ন পর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে যাদের রিলিফ দরকার, তাদের সেটা দিতে হবে।’

বিনায়ক সেন মনে করেন, কোভিড পরিস্থিতিতে দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে সহায়তার জন্যে সুশীল সমাজের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ থাকা উচিত। এ বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ বহু আগে আত্মশক্তিতে লিখেছিলেন যে, বিদ্যাদান থেকে অন্নদান, সবকিছুর জন্য আমরা কেন সরকারের মুখাপেক্ষী হইতেছি? কেন আমরা নিজেরা কিছু করছি না?’

এ পর্যায়ে বিনায়ক সেন বলেন, ‘কোভিডকালে গত এক বছরে এনজিওদের তাৎপর্যপূর্ণ একটা কোয়ালিশন দাঁড়িয়েছে কি না, আমাকে দেখান। কিংবা তাৎপর্যপূর্ণভাবে চেম্বার অব কমার্স কিংবা বিত্তশালী লোকরাও তো দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াননি।’

এই অর্থনীতিবিদের ভাষ্য, ‘নাগরিকদের দেখভাল করার বিষয়টি অবশ্যই সরকারের প্রাথমিক ও প্রধান দায়িত্ব। পাশাপাশি আমাদের সবারও কিছু দায়িত্ব আছে। আমরা যারা সরকারকে অ্যাকাউন্টেবল করতে চাই, সেটার কারণ বুঝি। কিন্তু, বৈষম্যের কারণে যারা বড়লোক হয়েছেন গত ১০ বছরে, কেন আমরা তাদের বলি না— আপনারাও আপনাদের শেয়ার প্রসপারেটি গরিব দেশে কিছুটা ভাগ করে দেন।’

মন্তব্যসমূহ

★★★গত ৭ দিনের সর্বাধিক জনপ্রিয় পোস্টগুলি★★★

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ব্যবিদ্যালয়ে নতুন মুখ

ইসমাম পারভেজ কনক   রেজিস্ট্রারসহ ইবির প্রশাসনিক তিন পদে নতুন মুখ অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন,আতাউর রহমান-সহীদ,উদ্দীন মোঃ তারেক। প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ তিন পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে রেজিস্ট্রার পদে আতাউর রহমান ও প্রধান প্রকৌশলী পদে মুন্সী সহীদ উদ্দীন মোঃ তারেক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এবং পরিবহন প্রশাসক পদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) উপাচার্য অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার আইয়ুব আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। পরে নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশ থেকে পরিবহন প্রশাসক ও প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের বিষয়টি জানা যায়। অফিস আদেশে বলা হয়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম তাঁদেরকে নিয়োগ দিয়েছেন। আতাউর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব থেকে পুনঃবিন্যাস ঘটিয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং উপ-প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী সহিদ উদ্দীন মোঃ তারেককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।  পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্...

কুষ্টিয়ায় ট্রিপল মার্ডারের ময়নাতদন্ত শেষে যা জানা গেল!

ইসমাম পারভেজ কনক  কুষ্টিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তা এ এস আই সৌমেনের গুলিতে স্ত্রী,পুত্রসহ ৩ জন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। রোববার রাতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় করা এই মামলার বাদি হন নিহত শাকিলের বাবা। একমাত্র আসামি পুলিশের এএসআই সৌমেন রায়। এদিকে হত্যাকারী পুলিশের বিরুদ্ধে দুটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ সোমবার দিনের কোনো একসময় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আদালতে আনা হবে বলে জানা গেছে। রোববার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া শহরের কাষ্টমস মোড়ে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যেই ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার পর তা নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন । লাশ তিনটির ময়নাতদন্ত করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার।   তাপস কুমার সরকার সাংবাদিকদের জানান, তিনজনকে দুটি করে ছয়টি গুলি করা হয়েছে। প্রত্যেকের মাথায় কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। প্রথমে শাকিল খানের ময়নাতদন্ত করা হয়। তার মাথার বাম পাশে গুলি করা হয়েছে। এ ছাড়া তার ডান পায়ের ঊরুতে গুলির চিহ্ন রয়েছে। এরপর আসমা খাতুনের ময়নাতদন্ত করা হয়। আসমার মাথা ও গলায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। সবশেষে শিশু রবিনের (৬) ...

অল্প সুদে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

ইসমাম পারভেজ কনক   ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ আসছে বলে জানিয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। এক্ষেত্রে অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) করোনাকালে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ভূমিকা শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব এসব কথা বলেন। প্রণোদনা প্যাকেজটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য বৃহস্পতিবারই (১৪ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান সিনিয়র সচিব। আসাদুল ইসলাম বলেন, একটি প্রণোদনা প্যাকেজ অর্থমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ দিতে যাচ্ছি। এটা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবো। অক্টোবর মাসে এটা নিয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করতে বলা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ২০ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল সেটার ডিসবার্সমেন্টটা ভালো ছিল না। অনেক চাপ প্রয়োগ করেছি, ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটা অনীহাও ছিল। আর একটা পরিস্থিতি তারা ফেস করেছে, সেটা হলো তাদের কাছে (ক্ষুদ্র উদ্য...

অনলাইনে বাস্তব ইনকাম পর্ব-০৬

ইসমাম পারভেজ কনক আপনি যদি নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন তাহলে নিশ্চয়  ফ্রিল্যান্সিং  বা  আউটসোর্সিং  এর মাধ্যমে  অনলাইনে আয়  করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু  অনলাইনে আয়  সে তো মরীচিকা, হয়তো অনেকবার চেষ্টা করেছেন কিন্তু সফল হননি। এই সেদিন আপনার পাশের বাড়ির কুদ্দুছ বা পরিচিত রহিমও টাকা পয়সার জন্য হা-হুতাশ করতো। কিন্তু  অনলাইনে ইনকাম  করে তাদের জীবন ধারাও পাল্টাতে শুরু করেছে। সারাক্ষণের সঙ্গী হাতের স্মার্টফোন বা মুভি দেখার কম্পিউটার টাই যদি হয়ে যায় আপনার উপার্জনের মাধ্যম, তাহলে নিশ্চয় মন্দ হয় না। আর আপনি যদি পরের অধীনে কাজ না করে স্বাধীন ভাবে আয় উপার্জন করতে চান তাহলে আপনার  ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার  শুরু করার জন্য এই লেখাটি হতে পারে সঠিক দিক নির্দেশনা।   কন্টেন্ট রাইটিং বা লেখালেখি ইন্টারনেটে অর্থ উপার্জন করার অন্য আরেকটি জনপ্রিয় উপায় হল বিভিন্ন ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য কন্টেন্ট লেখা। আপনি বিভিন্ন ব্লগ, কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, পন্য নিয়ে লিখতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের লেখার জন্য কন্টেন্ট রাইটাররা বিভিন্ন পরিমানে পারিশ্রমি...

‘রিলেশন থাকলেই ধর্ষণ-হত্যার অধিকার তো রাখে না’:আনুশকার মা

ইসমাম পারভেজ কনক কলাবাগানে ধর্ষণ-হত্যার শিকার ছাত্রীর মা বলেছেন, ‘বলা হচ্ছে, দিহানের সঙ্গে মেয়ের রিলেশন ছিল, মানলাম। কিন্তু রিলেশন থাকলেই ধর্ষণ বা মেরে ফেলার অধিকার তো রাখে না।’  গতকাল বুধবার নিজ বাসায় প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ৭ জানুয়ারি রাজধানীর কলাবাগানে ধর্ষণের শিকার হয় ‘ও’ লেভেলে পড়ুয়া ছাত্রী। সেখান থেকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মেয়েটি মারা যায় বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।  এই মা বলেন, তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় একজন নয়, একাধিক মানুষ জড়িত ছিল। তিনি জড়িত সবার যথোপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।  মেয়েকে হারিয়ে এই মা বলেন, মেয়ে ২০ মিনিটের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু সে আর ফিরে এল না।  মারা যাওয়া মেয়েটির রুমে বসেই কথা বলেন মা। মেয়ের রুম সাদা ও বাদামি রঙে ছিমছাম করে সাজানো। পড়ার টেবিলে পড়ে আছে পারিবারিক একটি অ্যালবাম। মেয়ের বইসহ অন্যান্য জিনিস সাজিয়ে রাখা আছে। মা জানালেন, মেয়ে হালকা রং পছন্দ করত। মেয়ের পছন্দেই ঘরের পর্দা কেনা হয়েছিল।    এই মা বলেন, ‘মেয়ে স্বেচ্ছায় সেখানে গেছে, তা বিশ্বাস করি না। অচেতন করে বা যেভাবেই হোক, মেয়েকে নেওয়া ...

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পাহাড়পুরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৩

ইসমাম পারভেজ কনক কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার ফিরােজ আহমেদ কটার নেতৃত্বে দু'পক্ষের সংঘর্ষ হয়, আহত ৩ আজব শেখ (৫৫), রজব শেখ (৪৫), আমিরুল সেখ (৪৭),গতকাল ৬/জুলাই আনুমানিক রাত ৯/ টার দিকে তারা তিনজন বাঁধ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পাহাড়পুর গ্রামের মমিনের বাড়ির সামনে থেকে কটা মেম্বার এর নেতৃত্বে একদল দুবৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপরে হামলা করে ফলে তিনজনই গুরুতরভাবে আহত হয় তারা এখন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

জিপিটি সাইটে কীভাবে রেজিষ্ট্রেশন করবেন?

ইসমাম পারভেজ কনক   জিপিটি সাইটের রেজিষ্ট্রেশন পিটিসি সাইটের মতই।তাই যারা পিটিসি সাইট খুলেছেন।তারা একইভাবে জিটিসি সাইট খুলুন।এখানে ক্লিক্সসেন্সের মাধ্যমে দেখানো হল।তবে সকল পিটিসি এবং জিটিসি সাইটের রেজিষ্ট্রেশন এবং লগিন সিস্টেম একই রকম। রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া এবার আসল কাজ শুরু। clixsense পলিসি অনুযায়ী সাইটে সাইনআপ করতে হলে আপনাকে কোন রেফারেল আইডি হয়ে রেজিঃ করতে হবে। কেননা, আপনি যখন Referral এবং Advertisement শুরু করবেন সেখানে ইনকাম বৃদ্ধিতে বেশ সহায়ক হবে। রেফারেল না হয়ে  সরাসরি সাইনআপ করতে পারবেন। তবে তা clixsense সার্ভারে  Non Improve ID হিসাবে রেকর্ড থাকবেন। আমি যখন Signup করেছিলাম তখন অন্য একটি Referral আইডির মাধ্যমে Pass করেছিলাম। যাইহোক এবার বিষয়টি আপনার ইচ্ছা কোন পদ্ধতিতে রেজিঃ করবেন! রেজিঃ করতে প্রথমে তাদের সাইটে যান  এখানে ক্লিক করুন। সেখান হইতে সাইনআপে ক্লিক করুন> নিম্নরুপ চিত্র আসবে > যাবতীয় তথ্যাদি পূরন করুন।তবে ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড অবশ্যয় মনে রাখবেন অথবা কোথাও লিখে রাখুন। First name অংশে নিজের আসল নামের  First name পূরন করে Last name দেন। ...

কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়া বাজারে সলিং ও ড্রেন নির্মাণ কাজে অনিয়ম

ইসমাম পারভেজ কনক  কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার উজান গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের বিত্তিপাড়া বাজারে  সলিং ও নিম্ন মানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা এ বিষয়ে অভিযোগ তুলেছে। স্থানীয় ইউপি দুই মেম্বর  ফরিদা ও স্কেন্দার বাজারটিতে এডিবির অর্থায়নে সলিং বাবদ-১০৭,৭০০/ =ড্রেন বাবদ ১৫৯,০০০/=  টাকার নির্মান কাজ পরিচালনা করছে।  কিন্তু নিম্নমানের ইট কাদা মিশ্রিত বালি দিয়ে নিম্নমানের কাজ করায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নিম্ন মানের ইট কাদা মিশ্রিত বালি যেটা নির্মান কাজের জন্য মোটেও উপযুক্ত নয় আর ইটের মাঝখানে কোন মশলা ছারাই কাজ করে ফেলছে এতে করে মজবুত না হওয়ায় সাথে সাথে ভেঙ্গে পরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। । তারা ভাল মানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে কাজ করার দাবি জানান। নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারনে স্থানীয়রা ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার পর সাংবাদিক সরজমিনে গেলে এই চিত্র ফুটে উঠে।

ঠিকাদারি ব্যবসা ছেড়ে মাছ ও ফল চাষে বাজিমাৎ!

ইসমাম পারভেজ কনক   কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের আহম্মেদপুর এলাকার হযরত আলী (৬০) পেশায় ছিলেন একজন ঠিকাদার। বয়স বাড়ায় ছাড়তে হয়েছে এ পেশা। এরপর নিজেকে বেকার মনে হওয়ায় গড়ে তোলেন পুকুর, গরুর খামার আর মিশ্র ফলবাগান। আর তাতেই বাজিমাৎ। এখন তিনি এলাকায় উদ্যোক্তাদের রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, খামারে মোট ২৪টি ছোট বড় পুকুরে বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ হচ্ছে। তার পাশেই আছে কাটিমন আম, পেয়ারা, লেবু, কমলা, মাল্টা, পেঁপেসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের ফলবাগান। বাগানের পাশেই একটি শেডে ৬টি গাভী পালন করা হয়। এই মিশ্র ফল বাগান ও খামার থেকে হযরত আলীর বার্ষরিক আয় ৫-৭ লাখ টাকা। আরও জানা গেছে, হযরত আলীর মাছ চাষ ও ফলবাগান দেখে গ্রাম ও আশপাশের এলাকার অনেকে উদ্বুদ্ধ। অনেকে একই উদ্যোগ নিয়ে এখন স্বাবলম্বীও হয়েছেন। প্রতিদিন তার বাগান দেখতে ভিড় করেন বহু মানুষ। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের আহম্মেদপুর এলাকার হযরত আলী (৬০) পেশায় ছিলেন একজন ঠিকাদার হযরত আলী জানান, তার বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও সাতক্ষীরায় ব্যবসা ছিল। পেপার্স প্রিন্টিং প্রেস ও ঠিকাদারী ব্যবসা করতেন সেখানে। কিন্তু এখ...

কুষ্টিয়ার জোতপাড়া গ্রামে বিষপানে শামীম নামের এক যুবকের মৃত্যু

ইসমাম পারভেজ কনক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উত্তর জোতপাড়া গ্রামের রজব আলী কটার  ছেলে হাসমত আলী  ওরফে শামীম  (১৯.০৬.২০২১) আনুমানিক  বিকেল ৫.৩০ মিনিটে  কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে  ইন্তেকাল করেন। জানা যায়,পারিবারিক কলোহের জেড়ে শামীম এক পর্যায়ে বিষপান করেন।বিষপানের পর তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সত্যই কি পারবারিক কলোহের জেড়ে বিষপান করে শামীম মারা গেল,নাকি অন্য কোনো কারণ আছে।সেইটা এখনও রহস্যই রয়ে গেছে।